প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে বাবাকে করাত দিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনা ঘটেছে। মিরাজ আলী (২৪) নামে এক যুবককে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
এই ঘটনার ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম তার ছেলে মিরাজ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং চুরি, মারামারি, অশান্তিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। একাধিকবার তাকে মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাঠানো হলেও সে ফিরে এসে পুনরায় মাদক সেবন করে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাদক কেনার টাকা না পেলে অভিযুক্ত ছেলে বাড়ির মালামাল বিক্রি করে দেয়, গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করে এবং বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। এর আগে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সে দুইবার কারাভোগও করেছে। তার অত্যাচারে তার স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে যান।
সর্বশেষ গত ২২ জুলাই বাড়িতে অশান্তির একপর্যায়ে বাবা জাহিদুল ইসলাম কারণ জানতে চাইলে, মিরাজ আলী ঘর থেকে একটি করাত এনে বাবার গলায় ধরে জবাই করার চেষ্টা করে। এ সময় তার মা এগিয়ে এলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে। পরে তারা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানির সময় মিরাজ আলী সবার সামনে স্বীকার করেন তিনি মাদক সেবন করেন। পরে তার বসতঘরে তল্লাশি করে মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি, অভিযোগের বিবরণ এবং ঘটনাপ্রবাহের বিশ্লেষণ করে আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদক, পারিবারিক সহিংসতা ও জনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন