প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি হাসপাতালের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করার সময় রোগীদের প্রতি অবহেলা, হয়রানি, খাদ্য সরবরাহে অনিয়ম কিংবা স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে আপস না করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘জনগণ চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসে শেষ ভরসা নিয়ে। সেই ভরসার জায়গায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা দায়িত্বহীনতা বরদাস্ত করা যাবে না। প্রতিটি রোগীকে মানবিক আচরণ ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।’ ষ্টাফের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেন, যাতে সরকারী হাসপাতালগুলোতে যেকোনো সমস্যা সমাধানে সতর্কতা ডাকা যায়।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন বিভাগ যেমন জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড, প্রসূতি বিভাগ, শিশু ওয়ার্ড, প্যাথলজি বিভাগ এবং রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের সময়ে তিনি চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, যাতে স্বাস্থ্যসেবার মান, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
রোগীদের উদ্দেশ্যে তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, ‘সরকার জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ও উন্নত করতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। কোথাও কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা সেবায় অবহেলার অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের অধিকার, এটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’
তিনি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যুক্ত হয়ে বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার মান উন্নত করার জন্য অবকাঠামো উন্নয়নসহ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোভাবেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। রোগীর সঙ্গে ভালো আচরণ এবং দায়িত্বশীলতা স্বাস্থ্যসেবার এক অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি আরো যোগ করেছেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, জনবল বৃদ্ধি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভায় জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনগণের জন্য আরও উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।’
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করার জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও আন্তরিক হতে হবে। রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বদা গুরুত্ব দিচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেছিলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ একত্রে কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’ কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং জানান, ‘সীমিত জনবল ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’ এ সময় আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহমিদা আক্তার লিনা, ডা. নাহিদ নাজনীন ডেইজী, ডা. আহসান হাবীবসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য সচিবের এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকলে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন