প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে নাগেশ্বরী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) শিমুল সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা শিমুল সরকার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নাখারগঞ্জ বাজার এলাকার ওসমান গনির জ্যেষ্ঠ ছেলে মফিজুল ইসলাম আস্করনগর মৌজায় ৪৮ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আতাউর রহমানের স্ত্রী তাহমিনা দিলরুবা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্তভার এসআই শিমুল সরকারের ওপর অর্পণ করেন।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথ অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাই ছাড়াই গত ১৪ এপ্রিল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে গত ৬ মার্চ মফিজুল ইসলাম ও তাঁর বাবা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির ফসল নষ্ট করেন এবং হুমকি দেন। কিন্তু অভিযোগকারী দাবি করেন, ওই সময় তিনি ও তাঁর স্ত্রী ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তদন্তে ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শিমুল সরকার বলেন, তিনি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় সব সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র এবং প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেছেন।
তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারী পক্ষের একজন ঘটনার দিন ঢাকায় অবস্থান করার কথা বললেও তদন্তের অংশ হিসেবে মোবাইল ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত (লোকেশন) তথ্যসহ অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষায়,তদন্তে আমরা ডিজিটাল তথ্য-উপাত্তও বিশ্লেষণ করেছি। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তিনি ঘটনাস্থলের এলাকায় অবস্থান করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। এখন তিনি সেই বিষয়টি অস্বীকার করছেন।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে শিমুল সরকার বলেন,আমার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত কেউ উপস্থাপন করতে পারেননি। আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, আমি কোনো ঘুষ গ্রহণ করিনি। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সত্য তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছি।
তিনি আরও বলেন,আমি যদি তদন্তে কোনো ভুল করে থাকি, আদালত তা অবশ্যই যাচাই করবেন। আদালত কোনো প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ করেন না। বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
এসআই শিমুল সরকার আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষই শিগগির সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন বলে তিনি জেনেছেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম মোর্শেদ বলেন,অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলেও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন