প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম বিদেশ সফরে তিনি মালয়েশিয়া গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরবর্তীতে দুই দেশের শীর্ষ নেতা এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং আঞ্চলিক শান্তি-সমৃদ্ধির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে এই সফরটিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৈঠকের শেষে, বাণিজ্য, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের পরিধি বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি ব্যাপক ও যুগোপযোগী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় নেতা ২০২৭ সালের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া, দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সরাসরি সংযোগ বাড়াতে দ্রুত 'মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ যৌথ বিজনেস কাউন্সিল' কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, বন্দর এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। শ্রমবাজার ও অভিবাসন মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথা দেশে কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেছে। নতুন কর্মী নিয়োগের অনুমোদন এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং নিয়োগকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে 'কেস-বাই-কেস' পদ্ধতিতে কঠোরভাবে মূল্যায়িত হবে। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, বৈষম্যহীন এবং প্রতিযোগিতামূলক করতেই দুই দেশ একত্রে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেখানে কেবল অনুমোদিত ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করতে পারবে। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দেশের 'যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ' দ্রুত বৈঠকে বসবে এবং বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি পর্যালোচনা করে একটি আধুনিক ও নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের রূপরেখা তৈরি করবে। প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর ও মেধা উন্নয়ন ডিজিটাল রূপান্তরকে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরে নিয়ে দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্স খাতে যৌথভাবে কাজ করবে। সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ও টেস্টিং খাতে মালয়েশিয়ার বৈশ্বিক দক্ষতাকে বাংলাদেশের আইটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সাথে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রকৌশল গ্র্যাজুয়েটদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি 'দ্বিপাক্ষিক প্রতিভা সহযোগিতা কাঠামো' প্রস্তাব করা হয়েছে। হালাল শিল্প, শিক্ষা ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা হালাল ইকোসিস্টেমের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার ইসলামিক উন্নয়ন বিভাগ (জাকিম) বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও সহযোগিতা করবে। উচ্চশিক্ষায়, মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রসারে জোর দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে, পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে এলএনজি সরবরাহ ও অবকাঠামো উন্নয়নের ম্যাটার নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে মালয়েশীয় কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের জন্য, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যৌথ কৌশলগত মহড়া এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, আসিয়ান ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে মালয়েশিয়া। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়া তার নীতিগত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সাথে, আসিয়ানের 'সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার' হওয়া এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়া পূর্ণ সমর্থন প্রদান করেছে। আন্তর্জাতিক ইস্যুতে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সংগত অধিকার ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য দুই দেশ দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সফর শেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং দেশটির সরকারের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন