প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনার পাইকগাছায় দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। চলাচলের জন্য প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ যে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, তা জন্য এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে ভোগান্তি অবিরাম।
রোববার (২১ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৬ নং লস্কর ইউনিয়নের বাইনতলা খেয়াঘাট থেকে খড়িয়া খালপাড় অভিমুখে পাইকগাছা জিসি–বাইনতলা বাজার –বগুড়ারচক –গিলাবাড়ি জিসি সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙাচোরা ও উঁচুনিচু অংশে যাতায়াত মুশকিল হয়ে গিয়েছে। কোথাও কোথাও মাটি সরে যাওয়ার কারণে যান চলাচল হয়ে উঠেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এইসব গর্তে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি এবং কাদা।
৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই সড়ক স্থানীয়দের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও মৎস্যচাষিসহ হাজারো মানুষের চলাচলে এই পথ ব্যবহার হয়ে থাকে। কৃষিপণ্য এবং রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল বলেছেন, "দীর্ঘ প্রায় দুইযুগ ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।"
মাছ ব্যবসায়ী অভিজিৎ মণ্ডল জানিয়েছেন, "আমাদের এলাকা চিংড়ি ঘের অধ্যুষিত এলাকা। প্রচুর চিংড়ি এবং অন্যান্য মাছ উৎপাদন হয়। কিন্তু যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি অনুপযোগী হওয়ায় মৎস্য আড়তে পৌঁছাতে দেরি হয়, ফলে মাছের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হই।"
সড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখন পর্যন্ত মেলেনি দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ।
লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম সানা বলেন, "সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশা করছি।"
উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব জানিয়েছেন, "খুলনা বিভাগীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের ডিপিপিতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকায় এটি ২ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজটি শুরু হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন