প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান যুদ্ধের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘরের শত্রু খুঁজছেন। তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
মার্কিন অস্ত্রের মজুতের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় আগস্ট মাসে ৫০ জন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা (মিথ্যা শনাক্তকারী পরীক্ষা) পরিচালনা করেছেন মার্কিন তদন্তকারীরা। এ তথ্য জানায় আনাদোলু।
শুক্রবার একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তের আওতায় প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেওয়া জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতাদের নিয়ে গঠিত জয়েন্ট স্টাফের কর্মকর্তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মূলত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
অন্যদিকে, সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পলিগ্রাফ পরীক্ষায় এফবিআই জড়িত ছিল না। সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্তকারীদের মাধ্যমে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করে। তবে সব জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতার পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও এই তদন্তের আওতার বাইরে ছিলেন।
জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তথ্য ফাঁসের ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, গণমাধ্যমের কাছে তথ্য ফাঁস করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পলিগ্রাফ পরীক্ষায় কোনো কর্মকর্তা ব্যর্থ হননি। তদন্তকারীরা উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, সরকারের কোনো কর্মকর্তা বিদেশি গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছেন কি না। কারণ, নির্দিষ্ট অস্ত্রের মজুতসংক্রান্ত তথ্যের প্রবেশাধিকার ছিল অত্যন্ত সীমিত।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, সংস্থাটি ‘অভ্যন্তরীণ কর্মী বা তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করে না’। তবে শ্রেণিবদ্ধ বা গোপনীয় তথ্য ফাঁসের বিষয়টি তারা ‘অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং সে অনুযায়ী তদন্ত করে।’
ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত অস্ত্রের ঘাটতির খবর অস্বীকার করে বলেছেন, সামরিক বাহিনীর কাছে ‘বিপুল পরিমাণ’ অস্ত্র রয়েছে। তিনি তথ্য ফাঁসকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহমূলক বক্তব্য’ এবং ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, দায়ীদের ‘খুঁজে বের করা হবে’ এবং তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়ার এই উদ্যোগের আগে বেশ কিছু অননুমোদিত তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অর্ডারস বুকের একটি অংশ ফাঁস হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
ওই নথিতে দেখা যায়, চার তারকা পদমর্যাদার ছয়জন সামরিক নেতা ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করেছিলেন। তারা সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধটি ‘টেকসই নয়’ এবং এটি বিশ্বব্যাপী সামরিক প্রস্তুতি দুর্বল করছে।
পারনেল এই তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ‘অপরাধ’ এবং ‘বাহিনীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে নিন্দা করেন। তিনি আরও বলেন, এসব তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বড় একটি অংশই ভুল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন