প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে চলনবিল অধ্যুষিত এলাকায় বন্যার পানি আসতে শুরু করেছে। প্রতি দিন পানি বাড়ছে। বর্ষা ঋতুর আগমনের সাথে সাথে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কারিগররা। তারা দিনরাত এক করে নৌকা তৈরি করছেন। নতুন নৌকার পাশাপাশি অনেকেই পুরনো নৌকার মেরামতের জন্য তাদের কাছে ছুটছেন। এই সিংড়া উপজেলায় বর্ষাকালে চলনবিল ও আত্রাই নদীতে জেলেরা মাছ শিকার করেন। তাই এই সময়টাতে ব্যাপকভাবে নৌকার প্রয়োজন দেখা দেয়।
বছরের আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে শুরু করে কার্তিক পর্যন্ত পাঁচ মাস বন্যার কবলে থাকা এই অঞ্চলের বেশিরভাগ গ্রাম ও পথঘাট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাতায়াত, হাটবাজার এবং মাছ ধরার কাজে একমাত্র বাহন হিসেবে নৌকা ব্যবহৃত হয়। তাই বর্ষাকালে নৌকার কদর বেড়ে যায়।
যেসব জেলে পেশায় রয়েছেন, তারা এখনই মাছ ধরার জন্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই কারণে চলনবিল অঞ্চলে নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। নদীর আশপাশের এলাকায় কেউ কেউ পুরনো নৌকায় আলকাতরা লাগাচ্ছেন, আবার কেউ বা দিচ্ছেন জোড়াতালি। কেউ কেউ তারকাঁটা ও লোহার পাত দিয়ে তক্তা জোড়া লাগানোর কাজে খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, উপজেলার বিলদহর, কালিনগর, শেরকোল, তাজপুর, সাঁতপুকুরিয়া, বড়িয়া, ডাহিয়া ও বিয়াশসহ পৌর এলাকায় নৌকা তৈরির কারিগররা নতুন নৌকা তৈরি ও পুরনো নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
কারিগররা জানান, নৌকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের দামের বৃদ্ধি ঘটায় আগের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
পৌর শহরের বালুয়া বাসুয়া এলাকায় একজন কাঠমিস্ত্রী পুরনো নৌকা মেরামতের কাজে রয়েছেন। তিনি জানান, সারা বছর কাঠের কাজে ব্যস্ত থাকেন। বর্ষার এই সময়ে তিনি নৌকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন। এতে তার বাড়তি আয় হয়।
পৌরসভার চকসিংড়া মহল্লার নৌকা তৈরির কারখানার মালিক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমার কারখানায় কড়ই, হিজল ও মেহগনির কাঠ দিয়ে বেশিরভাগ নৌকা তৈরি হয়। এছাড়া নৌকা তৈরির জন্য আলকাতরা, বাঁশ, তারকাঁটাসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রয়োজন। এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি নতুন নৌকা বিক্রি করেছি। বেশিরভাগই ছোট ডিঙি নৌকা, যেগুলি অধিকাংশই মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হয়। এ বছর ২০০ থেকে ২৫০টি নৌকা বিক্রি করার আশা করছি। কাঠের নৌকা বিক্রি করছি ৫৫০০ থেকে ৬০০০ টাকা ও প্লেন সিটের নৌকা বিক্রি করছি ৮৫০০ থেকে ৯০০০ টাকায়।’
নৌকা তৈরির কারিগর স্বপন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, বর্ষাকালে দিনে ২টি থেকে ৩টি নৌকা তৈরি করি। নৌকাভেদে মজুরি পাই ১০০০ থেকে ১৮০০ টাকা করে। সারাবছর কাঠমিস্ত্রী হিসেবে অন্য জিনিসপত্র তৈরি করি, যেটা দিয়ে আমার সংসার চলে।
নৌকা কিনতে আসা সাঁতপুকুরিয়া গ্রামের মো. রুবেল হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি চলনবিলের মাঝখানে। সামান্য বর্ষাতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। তবে এ বছর নৌকার দাম অনেক বেশি।’
উপজেলার চামারী ইউনিয়নের আনন্দনগর এলাকা থেকে নৌকা কিনতে আসা আফজাল হোসেন বলেন, 'চলনবিলে পানি বাড়লেই নৌকার প্রয়োজন হয়। মাছ ধরা, জমিতে যাওয়া এবং এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাতায়াতের জন্য নৌকা ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই নতুন নৌকা কিনতে এসেছি।’
চলনবিলের নৌকা তৈরির কারখানার মালিক গোদা কুমার জানান, কাঠ, লোহাসহ অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে গত বছরের তুলনায় খরচ অনেক বেশি হয়েছে।
নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও বর্ষা এলেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। এখন প্রতিদিনই নতুন নৌকার অর্ডার পাচ্ছি। যদিও কাঠের দাম বেড়েছে, মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে তারা নৌকা বানাচ্ছেন। কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন