প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুর নগরীর খামার মোড় এলাকায় হাতুড়ি দ্বারা পিটিয়ে শাওন (২৫) নামের এক কর্মচারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে এক হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে নগরীর খামার মোড় এলাকায় হঠাৎ করে মিজানুর রহমান মনু হাতে থাকা একটি হাতুড়ি দিয়ে শাওনের ওপর হামলা করেন। তিনি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরপর কয়েকটি আঘাত করেন।
এতে গুরুতরভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই শাওন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল মিয়া বলেন, আমরা হঠাৎ চিৎকার শুনে এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি শাওনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। পরে সে মাটিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা মিলে তাকে হাসপাতালে পাঠায়, কিন্তু চিকিৎসক জানান, সে মারা গেছে।
খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
তবে অভিযুক্তের পরিবারের দাবি, মিজানুর রহমান মনু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাদের দাবি, এই মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের মানসিক অবস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি প্রকৃতপক্ষে মানসিক ভারসাম্যহীন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনুকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযুক্তের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলা হলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, কর্মস্থল সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব অথবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহত শাওনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন