প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি মৌসুমে ইংলিশ কাউন্টি দলের অংশ হিসেবে কেন্টে যোগ দিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। অফিসিয়াল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে মঙ্গলবার (২ জুন) বিষয়টি। হাসানের এজেন্ট ইহসান সাইয়েদ-হুসেইন ক্রিকবাজকে জানিয়েছেন যে, ডানহাতি এই পেসার ১২ জুন থেকে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে কেন্টের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান উরচেস্টারশায়ার ও সারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছিলেন।
গত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) টেনিস এলবোর চোটে আক্রান্ত হয়ে তিনি জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি মিস করেন। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ডে গিয়ে কেন্টের প্রধান কোচ অ্যাডাম হলিওকের তত্ত্বাবধানে অনুশীলনে অংশ নেন।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ইহসান সাইয়েদ-হুসেইন হাসান ও কেন্টের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো ১২ জুন ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পাওয়া। সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা আশা করছি এর আগেই ভিসার কাজ সম্পন্ন হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ১৮ জুন মিডলসেক্সের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে তার অভিষেক হবে। তবে আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা হচ্ছে ১২ জুন।’
তাঁর মতে, ‘সত্যি বলতে এটি হঠাৎ করে হওয়া কোনো চুক্তি নয়। হাসান যখন ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়েছিল, তখন থেকেই আমি এই পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করতে শুরু করি। কেন্টের ব্যবস্থাপনা ও অধিনায়কের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমি তাদের বলেছিলাম, “বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ নামে একজন বোলার খেলছে। সে দারুণ করছে, আর কাউন্টি ক্রিকেটে খেললে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে পারবে।”’
‘এরপর থেকেই তারা তাকে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। ২০২৫ মৌসুমেই তারা তাকে নিতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু তখন বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড সিরিজের কারণে তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমরা কেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলাম এবং তাদের জানিয়েছিলাম যে আগ্রহ দুই পক্ষেরই রয়েছে।’
ইহসান আরও জানিয়েছেন, ‘চলতি মৌসুমের শুরুতেই তারা আবারও প্রবল আগ্রহ দেখায়। কোচ ও ব্যবস্থাপনা আমাদের মৌখিকভাবে জানায় যে তারা এ বছর হাসানকে দলে চায়। তবে দুটি বড় বাধা ছিল। প্রথমত, হাসানের প্রাপ্যতার সময়সূচি নিশ্চিত করা। কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেট সূচি অনেক সময় শেষ মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। দ্বিতীয়ত, তখন কেন্টের বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা পূর্ণ ছিল।’
তিনি যোগ করেন, ‘পরিস্থিতি পরে বদলে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসান টেনিস এলবোতে আক্রান্ত হয় এবং পুনর্বাসনের জন্য ইংল্যান্ডে আসে। তখন আমি আবার কেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এর আগে তারা তাকে নিতে মৌখিক সম্মতি দিয়েছিল, কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। হাসান যুক্তরাজ্যে আসার পর আমি কেন্টকে বলি, “হাসান এখানে চোট থেকে সেরে উঠছে এবং পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাকে বোলিং করতে হবে। সে কি আপনাদের সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারে?”’
এভাবে ধীরে ধীরে আলোচনার অগ্রগতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত কেন্টের হয়ে খেলার পথ তৈরি হয় এ বাংলাদেশের উদীয়মান পেসারের জন্য। তিনি উল্লেখ করেন, ‘তারা সঙ্গে সঙ্গেই বলেছিল, “অবশ্যই! আমরা তো যেকোনোভাবেই তাকে দলে নিতে চাই। তাই সে আমাদের সুবিধাগুলো ব্যবহার করে এখানে অনুশীলন করলে আমরা খুবই খুশি হব।” এই কারণেই হাসান সেখানে বোলিং শুরু করে। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ট্রায়াল ছিল না; তিনি শুধু চোট থেকে পুনর্বাসনের কাজ করছিলেন। তবে সে যখন সেখানে বোলিং করছিল, তখন কেন্টের কর্মকর্তারা তাকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান। কাকতালীয়ভাবে ঠিক সেই সময়েই কেন্টের বিদেশি খেলোয়াড়দের একটি জায়গা খালি হয়ে যায়।’
‘কোন খেলোয়াড় চলে গিয়েছিল তা আমি নিশ্চিত না, কারণ তাদের দলে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়সহ তিন-চারজন বিদেশি ক্রিকেটার রোটেশনে ছিল। তবে একটি জায়গা খালি হয়ে যায়। এরপর কেন্ট আমাদের জানায়, “দেখুন, এখন বিষয়টি বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তার সঠিক প্রাপ্যতার সময়সূচি কেমন?”’
ইহসান আরও বলেন, ‘আমরা ক্যালেন্ডার দেখে বুঝলাম, দারুণ একটি সুযোগ রয়েছে। সে জুনে দুটি ম্যাচ খেলতে পারবে এবং সেপ্টেম্বরে ফিরে এসে আরো চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। কেন্ট সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যায়। সবকিছু নিখুঁতভাবে মিলে যায়। এখন চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সবকিছু চূড়ান্ত। শুধু ভিসার অপেক্ষা। ভিসা হলে সে ইংল্যান্ডে যাবে, জুনের ম্যাচগুলো খেলবে এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।’
কেন্টের সঙ্গে চুক্তির আগে হাসানকে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও ডাক দেওয়া হয়েছে। ফলে জুনে কেন্টের হয়ে খেলার পর, যদি নির্বাচকরা ডাকেন, জিম্বাবুয়ে সিরিজের জন্য তিনি জাতীয় দলে যোগ দেবেন। এরপর শ্রীলঙ্কায় গিয়ে কলম্বো ক্যাপসের হয়ে এলপিএলে অংশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য আবারও জাতীয় দলে যোগ দেবেন তিনি।
এজেন্ট আরও জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড ফিরে কেন্টের হয়ে বাকি কাউন্টি ম্যাচগুলো খেলবেন হাসান। শুধু আগস্ট মাসের ম্যাচগুলোতেই তিনি খেলবেন। তবে কেন্ট এ নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত কারণ তারা শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ব্যাপারে জানতেন।
এদিকে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় দলের দায়বদ্ধতার সঙ্গে সংঘর্ষ না হলে হাসানের কাউন্টি ক্রিকেট খেলা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাহরিয়ার নাফীস ক্রিকবাজকে বলেন, ‘জাতীয় দলের দায়বদ্ধতায় কোনো প্রভাব না পড়লে আমরা হাসান কিংবা অন্য যেকোনো ক্রিকেটারের এমন সুযোগকে সমর্থন করি।’
পরিসংখ্যানের দিক থেকেও হাসান যথেষ্ট সফল। এখন পর্যন্ত ১৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৩৬টি উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে দুবার পাঁচ উইকেট ও একবার চার উইকেট শিকার করেছেন।
সাদা বলের ক্রিকেটেও তার পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়। ২৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩৩টি এবং ২৬টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৮টি উইকেট শিকার করেছেন এই ডানহাতি পেসার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন