প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত দুই লেনের দুটি সার্ভিস সেতু আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রকল্পের আওতায় সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রথম অংশ যা উন্মুক্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশাবাদ, এর ফলে উত্তরা-আশুলিয়া পথে যান চলাচল সহজ হবে এবং বিদ্যমান যানজট কিছুটা কমবে।
আজ ধউর সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই দুটি সেতু তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে। প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার এবং উভয়টি দুই লেনবিশিষ্ট। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, মূল উড়ালপথের পাশাপাশি স্থানীয় ও আঞ্চলিক যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পৃথক সার্ভিস সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও নকশায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার অংশের সার্ভিস লেনের নির্মাণকাজ গত আগস্টে শেষ হয়। পরে সড়কে পিচ ঢালাই, সড়কচিহ্নসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নতুন সেতু দিয়ে উভয়মুখী যান চলাচলের সুযোগ তৈরি হওয়ায় উত্তরা থেকে আশুলিয়াগামী এবং আশুলিয়া থেকে ঢাকামুখী যানবাহনের চলাচল আরও স্বচ্ছন্দ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলমান অবকাঠামো প্রকল্প। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো বিমানবন্দর এলাকা থেকে আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া হয়ে বাইপাইল পর্যন্ত দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং রাজধানীর সঙ্গে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা। প্রকল্পের নির্মাণকাজ ২০২২ সালের অক্টোবরে শুরু হয়।
এদিকে প্রকল্পটির ব্যয় ও বাস্তবায়ন সময় সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে। দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় ৯ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা করা হয়েছে এবং মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল এক্সপ্রেসওয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশ। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয় জোরদার ও নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন