১১:১৩ পি.এম
এপ্রিলের অস্বাভাবিক অতিবৃষ্টির প্রভাব কাটতে না কাটতেই মে মাসের জন্য চরম আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
চলতি মাসের মধ্যে একদিকে যেমন বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হতে পারে, তেমনি দেশের ওপর দিয়ে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরের তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকৃতির এই দ্বিমুখী আচরণে সচেতন জনগণের মধ্যে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, একই সঙ্গে হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিবর্তিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, মাসে এক থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের পাশাপাশি অন্তত একটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের স্তর পর্যন্ত পৌছাতে পারে।
আরও পড়ুন: যে এলাকার নেতা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন, সে এলাকায় কি উন্নয়ন হবে না: গোলাম পরওয়ার
উক্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসের আবহাওয়া ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম। যেখানে এপ্রিলে গড়ে ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, সেখানে এবার বৃষ্টি ঘটেছে ১৯৬ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭৬ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, সাধারণত এ সময়ে ভারতের উজানে ব্যাপক বৃষ্টি হয়ে থাকে, কিন্তু এবার Bangladesh এমনকি অস্বাভাবিকভাবে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা মৌসুমি প্রবণতার সম্পূর্ণ বিপরীত বলা চলে।
এপ্রিলের অতিবৃষ্টির প্রভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওড় অঞ্চলে পড়তে শুরু করেছে। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোনার হাওরগুলোতে পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বোরো ধান কাটার শেষ সময়ে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। এর ওপর মে মাসে কালবৈশাখী এবং ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস কৃষকদের মধ্যে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। শ্রমিকসংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে পাকা ধান দ্রুত ঘরে তোলাও সম্ভব হচ্ছে না।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে ৫ থেকে ৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। এ ছাড়া, বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন নৌ অবরোধে কয়েক মাস টিকে থাকতে পারবে ইরান, সিআইএ’র মূল্যায়ন
আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, যদি মে মাসে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের প্রভাবে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়, তাহলে হাওড় অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পাকা ফসল ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন