প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনে হুথি আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্য সৌদি আরব দেশটির উত্তরাঞ্চলে শিয়া জায়দি ও সুন্নি সালাফিদের মধ্যে বিভাজন তৈরির একটি পরিকল্পনা করেছিল। কিছু গোপন নথির বরাতে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালমান বিন আবদুল আজিজ একটি গোপন সরকারি কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের ওই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল আনসারুল্লাহ বা হুথিদের সঙ্গে উত্তর ইয়েমেনের বৃহত্তর জায়দি শিয়া জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করা। একই সঙ্গে, হুথিবিরোধী উপজাতিদের শক্তিশালী করার চেষ্টা করা।
২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ইয়েমেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। ৩৩ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ ক্ষমতা ছাড়েন। এরপর তার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মনসুর হাদি ক্ষমতায় এলেও, রাজনৈতিক বিভক্তি কাটেনি।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে, উত্তর ইয়েমেনের সাদা অঞ্চলে হুথি আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সৌদি আরব উদ্বিগ্ন ছিল, সীমান্তবর্তী এই গোষ্ঠী ভবিষ্যতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সালমানের পরিকল্পনার দুটি দিক ছিল। প্রথমত, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইয়েমেনি উপজাতিদের অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, হুথি নেতৃত্বাধীন আনসারুল্লাহ ও সাধারণ জায়দি জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, সংঘাতকে সরাসরি সুন্নি-শিয়া যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন না করার বিষয়ে সতর্কতাও ছিল। কারণ, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে উত্তর ইয়েমেনের শিয়া জায়দি জনগণের বড় অংশ হুথিদের পাশে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুথিদের শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বা সামরিক গোষ্ঠী হিসেবে যুক্ত রাখা ছিল এই কৌশলের লক্ষ্য, যাতে তারা পুরো জায়দি সম্প্রদায়ের রক্ষক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে না পারে।
তবে, পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ আট বছরের যুদ্ধে ইয়েমেন ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।
ড্রপ সাইট নিউজের দাবি, তাদের হাতে থাকা সৌদি গোপন নথিগুলো ইয়েমেন নীতিতে রিয়াদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে সৌদি সরকার এসব নথি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন