ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

বিদ্রোহ করবো না, তবে সংবিধান পরিবর্তনের আন্দোলন করতে পারি: বিরোধীদলীয় নেতা


বিদ্রোহ করবো না, তবে সংবিধান পরিবর্তনের আন্দোলন করতে পারি: বিরোধীদলীয় নেতা

বর্তমান সংসদ গ্যালারিকেই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ উল্লেখ করে সারাবিশ্বের সব বাংলাদেশি সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, সরকারি দলের অনেকে ৭২ এর সংবিধানকে সম্মান করেন। তবে এটি তারা করতে পারেন না। কারণ ৭২ এর সংবিধান পরিবর্তন করে গেছেন জিয়াউর রহমান। আমাদেরকে এমনভাবে বলা হয় যেন আমরা সংবিধান মানি না। কিন্তু যতক্ষণ এই সংবিধান আছে, পরিবর্তনের আন্দোলন করতে পারি, তবে বিদ্রোহ করবো না।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, মানুষকে তার মতো করে মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে দল এবং আদর্শের ভিত্তিতে নয়, মেরিট এবং কমিটমেন্টের ভিত্তিতে যাতে সব নাগরিককে মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই সেটি ঘটতে পারে। সরকারি এবং বিরোধী দল এক হয়ে কমিটি হওয়ার কারণে তিনি মনে করেন যে, মানুষ আস্থা রেখেছে এবং সংকট কাটতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ব্রিকসে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির অবিশ্বাস ব্রাজিলের

তিনি আরও জানান, আমরা বিরোধী দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে আসিনি বরং ২০ কোটি মানুষের কথা বলতে এসেছি। সব ভালো কাজে সহযোগিতা করবো। খারাপ হলে বসে থাকবো না, সমালোচনা করবো।

তিনি শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান কারো মুখের দিকে তাকিয়ে পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেননি। যারা মজলুম হবে, তাদের পক্ষে আমাদের থাকতে হবে। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে এবং সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে, একজন প্রভুরও দরকার নেই।

ডা. শফিকুর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে আহ্বান করেন। তিনি বলেন, কারো চোখ রাঙানিকে আমরা সহ্য করবো না। সরকার যদি এই প্রকল্প শুরু করে, তবে আমি সরকারের পাশে থাকবো।

তিনি ৪৭ কে সম্মান করি উল্লেখ করে বলেন, ওই সীমারেখাটাই বাংলাদেশের সীমানা এবং কিছু নদী প্রতিবেশীদের পেটে চলে গেছে। অনলাইন এবং অফলাইনে বিভিন্ন অপপ্রচারের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সঙ্গে যাদের অশ্লীলতা হয়েছে, তার বিচার চাননি, তিনি বিচার চান। প্রধানমন্ত্রী কন্যা মানে আমার কন্যা, তাই এই ইতরদের বের করে আনা উচিত। নোংরা ধারা বন্ধ করতে হবে। অপরাধীকে খুঁজতে সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন৷

আরও পড়ুন: জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার মা-রা গেছেন

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না। এরা হলো নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। তিনি এই বিষয়ে শপথ নেন যে, তারা এদের নির্মূল করবেন।

নতুন ইতিহাস রচনা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যের ডাক দেয়ার আগে দা-কুড়াল ফেলে দেন। ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকলে, নিজেদের ইতিহাস রচনা করতে পারবে না। যে অন্যের দোষ খুঁজে সেই মহৎ হতে পারে না, কিন্তু যে নিজের দোষ খুঁজে পায়, সেটি মহৎ।

এছাড়া সংসদ অধিবেশন দেখতে শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেয়ায় তিনি সাধুবাদ জানান এবং সংসদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের এক মাসের সমপরিমানের ইনটেনসিভ দেয়ারও আহ্বান করেন।

আরও পড়ুন: কাবাডি খেলোয়াড় মিথিলাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এর ফলস্বরূপ দেশের মানুষ কষ্টে আছে বলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, এই সংকট নিরসনে এককভাবে নয়, বরং বিরোধী দলের দেয়া প্রস্তাব গ্রহণ করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতা করার সময় তিনি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

এই সংকটকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের তাপ বাংলাদেশেও লেগেছে। মানুষ কষ্ট পেয়েছে। এই সংকট নিরসনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, সরকার তা মেনে নিয়েছে।’

তিনি জানান, সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের গুরুত্ব সহ কাজ করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আগামী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে বিশেষ আলোচনার প্রস্তাব দেয়ার মাধ্যমে বলেন, ‘দ্রুত বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে আগামী অধিবেশনে আলোচনা করতে চাই। আমরা চাই মানুষের এই কষ্ট লাঘব করতে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের লক্ষ্য ও গন্তব্য অভিন্ন–তা হলো একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা অনেক বিষয়ে দ্বিমত করতে পারি, কিন্তু দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কষ্ট কমাতে আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে।’

জ্বালানি সংকট ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে ভবিষ্যতে সংসদকে আরও কার্যকর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এই দায়িত্বের চেয়ারে বসলে সবসময় তপ্ত চাপ অনুভূত হয়: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং

১১:৪১ পি.এম


এই দায়িত্বের চেয়ারে বসলে সবসময় তপ্ত চাপ অনুভূত হয়: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, সরকারপ্রধানের এই চেয়ারটি দূর থেকে দেখলে এটি খুব আরামদায়ক মনে হলেও, আসলে এটি মোটেও আরামের নয়। তিনি বলেছেন, এই চেয়ারটি একটি খুব কঠিন জায়গা। তিনি জানান যে, এই চেয়ারে বসলে তিনি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেন যে, আগুনের তপ্ত হিট বা তাপ আসছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।

তারেক রহমান ব্যক্তিগত অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদ বা জনসভায় অনেক জনপ্রিয় বা ‘পপুলার’ কথাবার্তা বলে হাততালি কুড়ানোর সুযোগ থাকলেও, এই দায়িত্বের চেয়ার তাকে সেই অনুমতি দেয় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই চেয়ার প্রতি মুহূর্তে তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, তাকে জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের চেয়ে সঠিক বা ‘রাইট’ ডিসিশন নিতে হবে।

দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ ও সমস্যা সমাধানের গুরুভার এই চেয়ারের উত্তাপ বাড়িয়ে দেয় বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি পপুলার ডিসিশনের পেছনে ছুটে গিয়ে থাকি, তবে হয়তো বাহবা পাবো, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলের বন্ধুদের প্রতি সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর আলাপ করার আহ্বান জানান তিনি, পপুলার সিদ্ধান্তের উপর নয়।

সংসদীয় গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যতবারই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ততবারই দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান মুখ থুবড়ে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের প্রকোপ: আক্রান্ত শতাধিক, মৃত্যু ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং

১১:৪২ পি.এম


রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের প্রকোপ: আক্রান্ত শতাধিক, মৃত্যু ৩

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হামের প্রকোপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৪ মাসের মধ্যে ক্যাম্পগুলোতে ৩৩০ জনেরও বেশি সম্ভাব্য এবং ৪০ জন ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

হামের ঘটনার এত উত্থানের কারণে কক্সবাজারে নিজেদের চিকিৎসা কার্যক্রম বাড়িয়েছে মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং স্থানীয় জনগণের হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিতেও সহায়তা করছে।

মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে এক বার্তায় এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

এমএসএফ জানায়, এই বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজারের বৃহত্তম আশ্রয়শিবিরে ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছেন, যারা হামের সংক্রমণের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে ঘনবসতিপূর্ণ জীবনযাপন এবং ঝুঁকির কারণে রোগটি জনগণের মধ্যে দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে।

হেলথ সেক্টরের তথ্য অনুসারে, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর মধ্যে বর্তমানে ৩৩০ জনেরও বেশি সম্ভাব্য এবং ৪০ জন নিশ্চিত হওয়া হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় জনগণের মধ্যেও মোট প্রায় ১৬০ জন রোগী পাওয়া গেছে।

চলতি বছর শুরুর দিকে জেলায় নিয়মিত হামের সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে মার্চ মাস থেকে হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিলে এই পরিস্থিতি আরো ত্বরান্বিত হয়েছে,” বলেছেন এমএসএফের কান্ট্রি মেডিকেল কোঅর্ডিনেটর মিকে স্টেনসেন্স।

তিনি জানান, ‘আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের টিম ক্যাম্পের ভিতরে এবং বাইরে উভয়দিকে সক্রিয় রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা এবং অনেকের গুরুতর নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা গেছে। চলতি এপ্রিল মাসে এমএসএফ কক্সবাজারে তাদের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৮৪ জন হামে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করেছে, যা বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় চারগুণ বেশি। এর মধ্যে ৮২ জনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ১৯ এপ্রিল আমরা জামতলী ক্যাম্পে একটি নতুন আইসোলেশন ইউনিট চালু করেছি, যা সকল ক্যাম্পের জন্য একটি রেফারেল সেন্টার হিসেবে কাজ করছে,’ বলেছেন মিকে স্টেনসেন্স। ইতিমধ্যে এই ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছেছে এবং আমরা শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আক্রান্তদের মধ্যে সঙ্কটাপন্ন রোগীর অনুপাত উদ্বেগজনক। গয়ালমারা মা ও শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের ৪০ শতাংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজনের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল। কুতুপালং হাসপাতালে ২০ দিনের ব্যবধানে ভর্তি হওয়া ৭১ জন রোগীর মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

ক্যাম্পের অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাত্রা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু ক্যাম্প এবং স্থানীয় এলাকায় টিকার নিম্ন হার এই সময় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্যাম্পগুলোতে ল্যাবরেটরি-নিশ্চিত হামের রোগীদের মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশই টিকা নেননি, বলেছেন স্টেনসেন্স। তাছাড়া স্থানীয় জনগণের মধ্যে টিকা না নেওয়া শিশুদের হারও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে টিকাদান কার্যক্রমকে আরো জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে, ২৬ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যাতে এমএসএফ সহায়তা করেছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ থাকা জনাকীর্ণ পরিবেশে নিউমোনিয়া, পুষ্টিহীনতা ও মৃত্যুর মতো গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

‘একটি নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং অত্যন্ত কার্যকর টিকার দুটি ডোজের মাধ্যমে এই রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব,’ বলেছেন স্টেনসেন্স। ‘কিন্তু এই প্রাদুর্ভাব আটকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকাদানের আওতায় আনা প্রয়োজন। আমরা যেমনটাই দেখে থাকি, ক্যাম্প এবং পাশের উভয় জনবসতিতে এই হার খুবই নিচে। পরিস্থিতির ভিত্তিতে গণ-টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে টেকসই বিনিয়োগ অপরিহার্য- একটির মাধ্যমে অন্যটি সফল হওয়া সম্ভব নয়।’

কক্সবাজারে এমএসএফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং এর আশপাশে বেশকিছু সেবাকেন্দ্রে হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে। এর মধ্যে জামতলী ও হাকিমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ‘হসপিটাল অন দ্য হিল’, কুতুপালং হাসপাতাল এবং গয়ালমারা মা ও শিশু হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি চিকিৎসা কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত। ১ জানুয়ারি থেকে আমাদের টিম হামের উপসর্গে আক্রান্ত বা নিশ্চিত হওয়া ৩৫০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে, যার মধ্যে ১০৩ জনের শারীরিক জটিলতা ছিল। পাশাপাশি এমএসএফ স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও বর্তমানে চলমান ১০ দিনব্যাপী হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতেও সহায়তা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইল মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রোগীর ওপর অক্সিজেন সিলিন্ডার পড়ে মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ পি.এম


টাঙ্গাইল মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রোগীর ওপর অক্সিজেন সিলিন্ডার পড়ে মৃত্যু

টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক রোগী, মিজানুর রহমান (৬৫), মাথায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পড়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। এই ঘটনা বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে হাসপাতালের লিফটে ঘটে।

মিজানুর রহমান সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের নন্দবালা গ্রামের নাগরিক ছিলেন। তিনি ডায়াবেটিসজনিত সমস্যার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, হঠাৎ করে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, তখন তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং সিলিন্ডারটি তার বিছানার পাশে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে, নবম তলায় নিয়ে যাওয়ার সময় লিফটে ধাক্কা লেগে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি তার মাথায় পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে এই দুর্ঘটনার জন্য অভিযোগ করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

তবে হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. বুলবুল আহমেদ জানান, রোগীর মৃত্যু চিকিৎসাধীন অবস্থায় হয়েছে এবং এটি একটি দুর্ঘটনা। চিকিৎসা প্রদান বিষয়ক কোনো অবহেলা ছিল না।

এহেন বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, "গুরুতর এই ঘটনার পেছনে অব্যবস্থাপনার কারণ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। ঘটনা সম্পর্কে ধারণা নিতে এবং তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%