প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
'ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য হলো, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া অবধি আন্দোলন চলতে থাকবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটসহ একাধিক জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, কারিগরি ত্রুটি ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ বাড়ছে। পরে অনলাইনে গড়ে ওঠা কাকরোচ জনতা পার্টি সিজেপি নামে একটি প্ল্যাটফর্ম আন্দোলন পরিচালনা করছে। দিল্লির যন্তর মন্তর এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় হাজারো শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এই আন্দোলন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত সোমবারের পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে। এ ঘটনার বিরুদ্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সমালোচনা করেছে।
আন্দোলনকারীদের উল্লেখযোগ্য তিনটি দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
এদিকে, আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পরিবেশকর্মী এবং উদ্ভাবক সোনাম ওয়াংচুক ২৬ দিন ধরে অনশন ও বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙেন। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে পানি পান করে অনশন শেষ করেন।
প্রতিবেদনে সরকার জানিয়েছে যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হবে না। এক্ষেত্রে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার পর সরকারের দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং সিজেপির দুই ছাত্রনেতার মধ্যে বৈঠক হয়েছে। এতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বার্তায় নরেন্দ্র মোদী বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি আবারও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হবে।
তবে মোদীর এই ঘোষণাকে যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন সিজেপি। সংগঠনটির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কার বক্তব্য, এটি মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা। সিজেপির সভাপতি অভিজিৎ দিপক জানিয়েছেন, সরকার পুরো দিল্লি বন্ধ করতে রাজি, কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণে রাজি নয়।
ছাত্রনেতাদের দাবি, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। অপরদিকে সরকার জানিয়েছে, তারা কোন ধরনের অহমিকা দেখাতে চাইছে না, বরং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করতে চায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন