প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামের শাকিল হোসেন ওরফে আশিক নামে এক যুবককে কেন্দ্র করে অপমৃত্যু ঘটনায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকালে মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনের সময় ভুক্তভোগী সোহেল হোসেন, ইউসুফ আলী, মনির হোসেনসহ শতাধিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। অপমৃত্যু মামলা সূত্রে জানা যায়, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে শাকিল ওরফে আশিক ৫ বছর আগে চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামের কোরবান আলীর মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন।
ট্রলি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। বিয়ের পর থেকে শাকিল ওরফে আশিক শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সাংসারিক এবং পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এরই প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে সেহরি খেয়ে স্বামী-স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েন।
সকালের ৬টার দিকে শাকিল ওরফে আশিককে ঘরের ডাবের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় তার স্ত্রী রিমা। এরপর এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন মৃত শাকিল ওরফে আশিকের পিতা জিয়াউর রহমান।
মামলা নং ৬। তারিখ-২৮/০২/২০২৬। সেখানে জিয়াউর রহমান উল্লেখ করেন, তার ছেলে পারিবারিক দ্বন্দ্বে অভিমান করে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সোহেল হোসেন অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পর মৃত শাকিল ওরফে আশিকের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। যেখানে মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের খাঁর ছেলে আরিফ খাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অথচ গত ৯ মার্চ'২৬ তারিখে মৃত আশিকের মা শামিমা বিবি বাদী হয়ে পাবনা আমলী আদালত-৪ এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।那里 সেই অভিযুক্ত আরিফকে সাক্ষী করা হয়েছে। একইসাথে ওই মামলায় এলাকার কয়েকজনকে মিথ্যা অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
এই মামলার পর থেকে আরিফ, তার ভাই কিরণ এবং তারা মিয়া মামলা থেকে বিবাদীদের নাম বাদ দিতে ৩ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা না দেওয়ায় তারা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে ও ফাঁসানোর অপচেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরেক ভুক্তভোগী ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, মূলত একটি জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিরণ খাঁর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলছে অনেকদিন ধরে। তার প্রতিশোধ নিতে কিরণ ও তার ভাই আরিফ, মৃত আশিকের পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে তাদের দিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছে। এবং এখন সেই মামলার বিবাদীদের নাম বাদ দিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করছে। আবার আগের অভিযোগে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত আরিফকে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে। এখানে স্পষ্ট যে মামলাটি মিথ্যা ও সাজানো। আমাদের ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী অনেক জন উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, দুই ভাই কিরণ ও আরিফ এবং একই এলাকার মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে তারা মিয়া তাদের একটি গ্রুপ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জমি দখল, চাঁদাবাজি সহ নানা অপকর্মে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তারা ভোল পাল্টে বিএনপির সাথে মিশে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সবাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন কিরণ খাঁ জানান, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। মামলা করেছে ছেলের বাবা, তিনি ভালো বলতে পারবেন। আমরা তাদের কাছে কোনো টাকা দাবি করি নাই। এসব অভিযোগ পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট। বরং তাদের উল্টো গত মঙ্গলবার বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে মারপিট করেছে। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন