প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পর্তুগালে প্রকাশ্য স্থানে মুখ ঢেকে রাখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নতুন আইনে বোরকাসহ মুখ ঢেকে রাখার যেকোনো ধরনের আবরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইন ভঙ্গ হলে ১৫০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো এই সপ্তাহেই নতুন আইনের কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। আইনটি পর্তুগিজ গণমাধ্যমে ‘বোরকা আইন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
আইনে নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় পোশাকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে লোকেরা মনে করছে যে মুখ আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে রাখা মুসলিম নারীদের পোশাককে লক্ষ্য করেই এই আইন করা হয়েছে।
নতুন আইনে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত, পেশাগত, শৈল্পিক বা আবহাওয়াজনিত কারণে মুখ ঢেকে রাখার অনুমতি থাকবে। উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন এবং বিমানের ভেতরেও নিষেধাজ্ঞাটি প্রযোজ্য হবে না।
আইনে বলা হয়েছে, লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে জোর করে মুখ ঢাকতে বাধ্য করা যাবে না। প্রেসিডেন্ট সেগুরো এক বিবৃতিতে বলেছেন, মানুষের মুখ তাদের পরিচয় ও যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মুখ উন্মুক্ত থাকা পর্তুগিজ সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক যোগাযোগের একটি ভিত্তি।
তবে তিনি বিষয়টিকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবেও স্বীকার করেছেন। প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছেন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার, লৈঙ্গিক সমতা ও সামাজিক সংহতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন।
ডানপন্থী শেগা পার্টির উত্থাপিত বিলটির চূড়ান্ত সংস্করণ গত জুলাইয়ে পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়। মধ্য-ডানপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টিও এতে সমর্থন দেয়। ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট ও কট্টর ডানপন্থীরা নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দিলেও বামপন্থী দলগুলো এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
পর্তুগালের কয়েকটি আইনজীবী সংগঠন আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে সোশ্যালিস্ট পার্টি, লিভরে ও কমিউনিস্ট পার্টি সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের আইন ইসলামীবিদ্বেষকে উসকে দিতে পারে। ২০১১ সালে ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে প্রকাশ্যে পূর্ণ মুখাবরণ নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গসহ আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন