প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশীয় সুতা ও তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এবং দেশের বস্ত্রশিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকন (নরসিংদী-১)-এর টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানালেন।
মন্ত্রী আরো জানান, ‘দেশীয় সুতা ও তাঁতবস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিন সুতা প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড়ের পুনরুজ্জীবন’ শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় সুতা কাটা, ফুটি কার্পাস তুলার জাত উন্নয়ন এবং এর চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশীয় সুতা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
তিনি সরকারের নতুন উদ্যোগগুলোর মধ্যে ‘কুমিল্লার খাদি শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে খাদি পল্লী স্থাপন’ এবং ‘জামালপুরের নকশি শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে নকশি পল্লী স্থাপন’ শীর্ষক দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েও আলোকপাত করেছেন। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অননুমোদিত প্রকল্প তালিকার গ্রিন পেজে এ দুটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হতে পারলে দেশের বস্ত্র উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকল পুনরুজ্জীবনের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকলের মধ্যে ১৫টি পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচিত বেসরকারি অংশীদারদের কাছে চারটি মিল হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এর মধ্যে দুটি মিলে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী এ তথ্যও ভাগাভাগি করেন যে, লিজ পদ্ধতিতে আরও দুটি মিল পরিচালনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, অবশিষ্ট মিলগুলোকে পিপিপি কাঠামোর আওতায় আনার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে বিটিএমসি নিয়ন্ত্রিত চিত্তরঞ্জন কটন মিলসের জায়গায় প্রস্তাবিত টেক্সটাইল ভিলেজের ২২টি শিল্প প্লটের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০টি প্লট বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে প্লটগুলোতে বস্ত্রশিল্প স্থাপন করে রফতানিমুখী উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।
দেশীয় সুতা ও বস্ত্রশিল্প সুরক্ষার বিষয়ে বক্তব্য রাখাকালে মন্ত্রী বাংলাদেশের তাঁত বোর্ডের অধীনে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বেসিক সেন্টারে পাঁচটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট, দুটি মার্কেট প্রমোশন সেন্টার স্থাপনের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প, জামদানি পল্লী প্রকল্প, ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং মসলিন সুতা প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও টেকসই উন্নয়ন আরও জোরদার হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন