প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ডব্লিউআইএস) ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (জিআইএস)-এর হিফজ ও এ লেভেল সমাবর্তন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে ১০০ জন হাফেজে কুরআন এবং এ লেভেলে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সমাবর্তনের সনদ, সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আধুনিক জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ সময় তিনি সততা, নিষ্ঠা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নূরউদ্দীন অপু, কবি ও সাহিত্যিক আনিসুল হক, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আয়াতুল ইসলাম, অক্সফোর্ড একিউএ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহেন রেজা, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশের প্রধান সারওয়াত রেজা, পিয়ারসন এডএক্সেল বাংলাদেশের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক লিটন আব্দুল্লাহ এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ব্যবসা উন্নয়ন পরিচালক তাহনী ইয়াসমিন। এছাড়া দেশের বিশিষ্ট ইসলামি আলেম, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসাইন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্যে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ জামান জানিয়েছেন, সমাবর্তন কেবল শিক্ষাজীবনের একটি আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি নয়, বরং এটি নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সূচনা।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য এমন শিক্ষার্থী গড়ে তোলা, যারা কুরআনের শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানকে সমন্বিতভাবে ধারণ করবে।
সহিহ হাদিসের প্রেক্ষিতে হাফেজে কুরআনের মর্যাদা তুলে ধরে আব্দুল্লাহ জামান বলেন, কিয়ামতের দিন হাফেজে কুরআনের পিতা-মাতাকে নূরের মুকুট পরিয়ে সম্মানিত করা হবে। পাশাপাশি হাফেজদের ‘কুরআনের সঙ্গী’ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।
সমাবর্তন বক্তা ড. এ এফ এম খালিদ হোসাইন বলেন, কুরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই হিফজের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডব্লিউআইএস ও জিআইএসে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী হিফজুল কুরআন অধ্যয়ন করছে। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
অনুষ্ঠানে ১০০ জন হাফেজে কুরআন এবং এ লেভেলে কৃতিত্ব অর্জনকারী ৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সনদ, সম্মাননা পদক ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত অভিভাবকরা করতালির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। অনেকেই সন্তানের এ অর্জনকে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থীরা ইসলামিক নাশিদ, নাট্য পরিবেশনা, আবৃত্তি এবং দেশাত্মবোধক পরিবেশনা উপস্থাপন করে।
সমাপনী বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ডব্লিউআইএস ও জিআইএসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল কাদের। তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, ইসলামিক মূল্যবোধ ও নৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ করে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন