প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভাগনে মিরাজসহ তিনজন আটক, ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে নিহতের মরদেহ
বরিশাল নগরীতে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে কামরুল ইসলাম (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সৎ ভাগনে সুরজ হোসেন মিরাজ (২৫) ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মিরাজসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পুরানপাড়া বটতলা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত কামরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর সৎ ভাগনে সুরজ হোসেন মিরাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় মিরাজ ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে কামরুল ইসলামকে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ ওঠে।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় কামরুল ইসলামকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে কামরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুরজ হোসেন মিরাজ, আনোয়ার ও খাদিজা নামের তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা এবং বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন