প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু পরিহার দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে এনাম নাহার মোড়ে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, সন্দ্বীপ উপজেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে ডিজাস্টার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (দাদু), বাংলাদেশের উদ্যোগে এটি আয়োজিত হয়। "পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু পরিহারযোগ্য : প্রয়োজন সচেতনতা এবং পানি থেকে সুরক্ষা কৌশল"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বলেন, দেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু। তবে যথাযথ সচেতনতা, সাঁতার শিক্ষা এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই ধরনের মৃত্যু অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মোহাম্মদ উল্ল্যাহ মিজান। সভাপতিত্ব করেন সন্দ্বীপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সন্দ্বীপ উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং দাদু সন্দ্বীপের কো-অর্ডিনেটর এস এম আইয়ুব আলী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, সন্দ্বীপ উপজেলা শাখার সভাপতি ইলিয়াছ সুমন। আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে আসেন সন্দ্বীপ শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আবুল কাশেম শিল্পী, শিশু সাহিত্যিক ও সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাজিদ মোহন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সন্দ্বীপ উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর মোস্তফা আলী হাসান এবং কার্যনির্বাহী সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আমিনুল ইসলাম রিয়াদ। টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ডিজাস্টার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রধান নির্বাহী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলম বলেন, "পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু একটি জাতীয় সংকট। এটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। এ লক্ষ্যেই আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।" দাদু সন্দ্বীপের কো-অর্ডিনেটর এস এম আইয়ুব আলী আরও জানান, সংগঠনের উদ্যোগে গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক, উপজেলা পর্যায়ে সেমিনার এবং সারিকাইত ও মাইটভাঙা ইউনিয়নে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্রও সম্পাদিত হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বক্তারা তুলে ধরেন, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর পেছনে বয়স্কদের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের সংকট, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, পুকুর ও জলাশয়ের আধিক্য, সাঁতার না শেখা এবং জলাশয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনীর অভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সমস্যা মোকাবেলায় বক্তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশুদের জন্য বেষ্টনীযুক্ত খেলাঘর স্থাপন, পুকুর ও জলাশয়ে শিশুদের প্রবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ, সাঁতার শিক্ষার প্রসার, নিরাপত্তামূলক সরঞ্জাম ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা, প্রশিক্ষিত সিপিআর প্রদানকারী তৈরি এবং শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপনের ওপর ভারী গুরুত্বারোপ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন