প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এখন থেকে বন্দর নগরীতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থা। এ উদ্দেশ্যে ২১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যাকে দূর করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে ট্রাফিক ব্যবস্থা মূলত হাতের ইশারা এবং বাঁশির মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বেশিরভাগ সড়কে কার্যকর কোনো সংকেত বাতি নেই। এর ফলে ম্যানুয়াল বা সনাতন পদ্ধতিতে কাজ করার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে থাকে। পাশাপাশি রয়েছে তীব্র যানজট ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার অভিযোগও।
এআই ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, চট্টগ্রামকে একটি পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এই সিস্টেমটি সম্পূর্ণভাবে এআই-ভিত্তিক হওয়ায় কোনো যানবাহন ট্রাফিক আইন অমান্য করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে পুরো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলে আসবে, যা যানজট কমিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পারে।
মেয়র আরও জানান, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে পুলিশ প্রশাসন, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা সংস্থার মতামত ও সুপারিশ এতে যুক্ত করা হবে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, চসিকের এই উদ্যোগের আওতায় নগরীর ৫৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশন (মোড়) এবং ব্যস্ত ট্রাফিক জোনকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। এসব স্থানে স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট সিগন্যাল ব্যবস্থা ও ট্রাফিক ফ্লো মনিটরিং স্থাপন করা হবে। এছাড়া আইন লঙ্ঘন শনাক্তকারী ক্যামেরা ও রেড সিগন্যাল ডিটেক্টরসহ স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারও গঠন করা হবে।
চট্টগ্রাম নগরে মোট ১৯৬টি ইন্টারসেকশন বা মোড় এবং ৩২টি ইউটার্ন রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৫৩টি স্থানকে স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যালের মাধ্যমে নজরদারির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। চসিকের পরিকল্পনায় শুধু সংকেত বাতি বসানোই নয়; বরং সড়কের নেটওয়ার্ক, মোড়ের ধরন, যানজটপ্রবণ এলাকা এবং নজরদারি ক্যামেরার জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করে সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রাথমিক হিসাব তৈরি করা হয়েছে। স্মার্ট সিগন্যাল প্রকল্পের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, জিইসি, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ওয়াসা, লালখান বাজার, টাইগারপাস, স্টেশন রোড, কদমতলী, অক্সিজেন, এ কে খান, ফৌজদারহাট, সিটি গেট, আগ্রাবাদ, বাদামতলী, বারিক বিল্ডিং, নিউমার্কেট, কাস্টম হাউস, সিইপিজেড গেট, হালিশহর বাজার, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কালুরঘাট, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, জামালখান, সিআরবি, ডিসি হিল এবং কাজীর দেউড়ি মোড়।
এর আগে, চসিকের উদ্যোগে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় না করে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ায়, ট্রাফিক বিভাগ সেই সিগন্যাল বাতিগুলো ব্যবহার করেনি। ফলে, সমন্বয়হীনতার কারণে সেই প্রকল্পের পুরো অর্থই ক্ষতি হয়ে যায়। পরে, ২০১৭ সালে সিডিএ কর্তৃপক্ষ নগরীর মুরাদপুর থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প অনুমোদন করার পর, নির্মাণকাজের সুবিধার্থে নগরীর প্রধান সড়ক (এশিয়ান হাইওয়ে)-এর সব সিগন্যাল বাতি তুলে ফেলা হয়।
এর পর থেকে চট্টগ্রামের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আর কোথাও সিগন্যাল বাতি ব্যবহৃত হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করেন, নতুন সমন্বিত এআই প্রকল্পটির মাধ্যমে আগের সব সমস্যা সমাধান করে নগরবাসী একটি আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা পাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন