প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরের মাধ্যমে জানা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের রাষ্ট্রবিরোধী ও ফ্যাসিবাদী তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তিনটি শিক্ষক সংগঠন তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে।
‘ইবি জিয়া পরিষদ’, ‘ইউট্যাব’ এবং ‘গ্রিন ফোরাম’ নামে পরিচিত এই তিন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে বিবৃতি প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার, ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ইউট্যাব)-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান যৌথভাবে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, দেশের ২২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্র ও জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তারা বলেন, নিষিদ্ধ একটি দলের আদর্শে উদ্বুদ্ধ শিক্ষকদের এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গঠিত তদন্ত কমিটির দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়ে থাকেন।
একই দিন, জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রিন ফোরামের নেতৃবৃন্দও এক বিবৃতিতে এ ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম একত্রে বলেন, পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিষিদ্ধ একটি দলকে সক্রিয় করার কথা নিয়ে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জড়িত থাকা উদ্বেগজনক। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, বুধবার ইবি জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকেও একই ঘটনায় নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম একযোগে বিবৃতিতে বলেন, জুলাই গণআন্দোলনের পর প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মূল্যবোধের অংশীদার হিসেবে এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান করেছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকায় থাকা ৪০৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন