প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা ইরানি হামলাকারী ড্রোনটি ভূপাতিত করার পর এবং ইরানের কয়েকটি রাডার স্থাপনায় আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
সেন্টকমের প্রাথমিক মূল্যায়নে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্রটি তার নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।”
মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও মার্কিন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন- এমন কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে যেসব ক্ষয়ক্ষতির দাবির কথা ইরান জানিয়েছে, তা সরাসরি নাকচ করেছে সেন্টকম। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, “বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইরানের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কুয়েত এবং বাহরাইন উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং আরব সাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে।
ঘটনার পর কুয়েত, বাহরাইন এবং আশপাশের অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার তথ্য জানিয়েছে আঞ্চলিক সূত্র। তবে হামলার ফলে কোনও বেসামরিক হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন