প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে চলমান ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে হার মানতে হলো ইংল্যান্ডকে। ১৯৬৬ সালের শেষ বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছিল থ্রি লায়ন্সরা। এবারও তারা খুব কাছাকাছি গিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হতে দেখলেন হ্যারি কেইনরা।
তাই ম্যাচ শেষে দলের ইংলিশ অধিনায়কের মন ছিল বিষণ্ণ। বিবিসি-কে তিনি জানিয়েছেন, "দলের সবার জন্য আমি ভীষণ হতাশ।" তার মতে, সেমিফাইনালে দল হিসেবে সামগ্রিকভাবে ভালো খেললেও শেষ পর্যন্ত তাদের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো। কেইন বলেন, "সেমি ফাইনালে পৌঁছাতে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং দলের সবাই নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে; তারা শেষ শক্তিটুকু দিয়ে দৌড়েছে এবং রক্ত-ঘাম-অশ্রু বিসর্জন দিয়েছে।" এত কিছুর পরও চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারাটা সত্যিই খুব কষ্টকর বলে জানান তিনি।
ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরে, ইংল্যান্ড যেন কেবল সেই লিড ধরে রাখার চেষ্টাই করছিল; কিন্তু কেইন জানান, এই পর্যায়ে এসে কেবল রক্ষণাত্মক মানসিকতা যথেষ্ট নয়। গর্ডনের গোলের পর ব্রায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার জানান, "তুখেল ও তার কোচিং স্টাফের বার্তা ছিল আক্রমণ অব্যাহত রাখার; কিন্তু মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড ক্রমশ রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ছিল এবং প্রতিপক্ষকে চাপ তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছিল।" যা আর্জেন্টিনা নিজেদের সুবিধায় কাজে লাগিয়েছে।
কেইন বলেন, "গোলের পর প্রতিপক্ষের পায়ে থাকা বল কেড়ে নেওয়া বা চাপ সৃষ্টি করতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। আমার মনে হয়, বিশেষ করে প্রথমার্ধে এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আমরা তাদের ওপর ভালোভাবে চাপ সৃষ্টি করেছিলাম।" মাঠের ওপরের দিকে তাদের চেপে ধরার ফলস্বরূপ বল কেড়ে নিয়ে খেলা কিছুটা ভালো নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু গোলের পর হয়তো তারা আক্রমণে বেশি খেলোয়াড় পাঠাচ্ছিল অথবা ইংল্যান্ড তাদের 'ম্যান-টু-ম্যান' মার্কিংয়ে পেরে উঠছিল না। তাদের আক্রমণের ঢেউ আসে পর পর। ছেলেরা অনেক শট বা পাস আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কোনওভাবেই যথেষ্ট ছিল না।
ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, "ম্যাচের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ছেলেরা সবসময় প্রস্তুত ছিল।" তারা যখন এগিয়ে গেল, তখন বার্তা ছিল আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া এবং আরও একটি গোল করার চেষ্টা। কিন্তু যখন প্রতিপক্ষ দুটি গোল শোধ করে ফেললো, তখন ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরার মতো কোনো গতি বা ছন্দ খুঁজে পাইনি।
শিরোপার জন্য আর্জেন্টিনার এটি সপ্তম ফাইনাল। ২০১৪ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনা কেবল একবার বিশ্বকাপের ফাইনাল মিস করেছে; তা ছিল ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে। ওই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে (শেষ ষোলো) খেলে বিদায় নিয়েছিল। এখন মেসি ও স্কালোনির হাত ধরে তারা চতুর্থ তারার খোঁজে অগ্রসর হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন