ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

খুবি ছাত্রী হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি, গঠিত হলো তদন্ত কমিটি


খুবি ছাত্রী হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি, গঠিত হলো তদন্ত কমিটি

অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রভোস্টকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। এই ব্যাপারে বুধবার (৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিস্তারিত জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ৩০ এপ্রিল সোমবার অধ্যাপক সাঈদা রেহেনাকে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে অব্যাহতি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. সেলিনা আহমেদকে আগামী তিন বছরের জন্য বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ৩০ মার্চ মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ শতাংশ সিট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে বেরিয়ে এসে গভীর রাতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রভোস্টের অপসারণ দাবী জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিন ধরে নোটিশ ছাড়াই জরিমানাগুলি, সিট বাতিলের হুমকি, স্বজনপ্রীতি এবং শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে হেয় করার মতো ঘটনা ঘটে আসছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপাচার্য প্রফেসর ড. রেজাউল করিম নতুন প্রভোস্ট নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: আন্দোলনের নামে চাপের মধ্যে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার

এর আগে গত বছরের ৪ নভেম্বর হলের সেবা ঘাটতি ও স্ট্রেচারসংক্রান্ত সমালোচনামূলক পোস্ট দেওয়ার জন্য হল প্রশাসন দুটি ছাত্রীকে পৃথক শোকজ নোটিশ দেয়, যাকে হল আইন পরিপন্থি ও নাশকতামূলক হিসেবে দেখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—অন্য হলের ছাত্রীকে মিথ্যা পরিচয়ে হলে প্রবেশ করানো, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া হলে নিয়ে আসা এবং পরে অনলাইনে উসকানিমূলক মন্তব্য করা।

বিজয়-২৪ হলের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আফনান আজিজ রামিন মন্তব্য করেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের যেন সিটসংক্রান্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতায় পড়তে না হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বর্তমানে যে সিটে আছে, মাস্টার্সেও যেন সেখানে নিরবচ্ছিন্নভাবে থাকার সুযোগ পায়।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে বিজয় ২৪ হলের অব্যাহতি পাওয়া প্রভোস্ট অধ্যাপক সাঈদা রেহেনার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বিদায়ি প্রভোস্টের অব্যাহতির বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, সাবেক প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আ. লীগ ফিরলে প্রথমে তারেক রহমানকে হত্যা করবে, দাবি নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে অবৈধ দুই ইটভাটা উচ্ছেদ, জরিমানা ৭ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

১২:৩৬ পি.এম


গোপালগঞ্জে অবৈধ দুই ইটভাটা উচ্ছেদ, জরিমানা ৭ লাখ টাকা

 

গোপালগঞ্জে অবৈধ দুইটি ইটভাটা উচ্ছেদ করে তাদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর।

মঙ্গলবার (৫ মে) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুইটি স্থানে দিনব্যাপী যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ‘নিগি ব্রিকস’ ও ‘ফুলমালা ব্রিকস’ নামের ইটভাটাকে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।

অভিযান শেষে ইটভাটা দুটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি স্কেভেটর ও পে-লোডার দিয়ে ভাটার কিলন ভেঙে ফেলা হয়। এভাবে ইটভাটা দুটি উচ্ছেদ করে তাদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মোবাইল কোর্টে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিরুদ্ধ দেব রায়। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদফতরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান শেখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদফতরের গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অভিযানে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ, আনসার বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানের পেশোয়ার কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

১২:৩৯ পি.এম


নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানের পেশোয়ার কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত কনস্যুলেট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সম্প্রতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, কূটনীতিকদের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সব কূটনৈতিক কার্যক্রম এখন থেকে ইসলামাবাদে অবস্থিত দূতাবাস থেকেই পরিচালিত হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, এই সিদ্ধান্ত তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির অংশ। একই সঙ্গে, এই পদক্ষেপটি সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য নেওয়া হয়েছে বলেও তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে একটি স্পর্শকাতর অঞ্চল। অতীতে এখানে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, এবং পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে যে, এই এলাকায় আফগানিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়েছে।

এর আগে, চলতি বছরের মার্চ মাসে করাচি শহরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে।

ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়। এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, এবং এর পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর জঙ্গিদের কারখানা হতে দেবো না: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর জঙ্গিদের কারখানা হতে দেবো না: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর জঙ্গি কারখানা হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি এ বিষয়ে বলেন, আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবো না। তাদেরকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে। তবে এমন স্বাধীনতা দেওয়া হবে না যে আরেকটি হলি আর্টিসান সৃষ্টি হয়। কিছুতেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর জঙ্গিদের কারখানা হতে দেবো না।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাত পৌনে ৯টার দিকে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এপিইউবি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে যে ধারণা থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন করেছিলেন, তার ফল আমরা আজ বলছি। এটাকে পরিবর্তন বা সংশোধনের চেষ্টা হয়েছে ২০১০ সালে এবং আবার ২০২৫ সালেও আমরা দেখেছি; প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কীভাবে সরকারি প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসা যায়, সেই চেষ্টা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি সরাসরি বলছি, ক্রস-বর্ডার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চারটি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি জানি না শিক্ষা মন্ত্রণালয় কীভাবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আমাদের বসে কথা বলতে হবে, জানতে হবে এবং বুঝতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আশির দশকে যখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশে এসে পড়াশোনা করতো। আর আজ আমরা সেখানে গিয়ে পড়াশোনা করছি। তারা ব্রেন ড্রেইন করেনি, বরং রিভার্স ব্রেন ড্রেইন করেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষাবিদরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিষেধাজ্ঞা শেষে লক্ষ্মীপুরে মিলছে না ইলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


নিষেধাজ্ঞা শেষে লক্ষ্মীপুরে মিলছে না ইলিশ

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্খিত ইলিশ। বর্তমানে ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। এই সময়ে সাধারণত ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ার কথা, তবে বর্তমানে জালে ইলিশ আসছে না। এর ফলে মাছ ঘাটগুলোতে অলস সময় অতিবাহিত করছেন জেলে ও আড়তদাররা। মাছ না পাওয়ায় জেলেরা হতাশ। মেঘনা নদীতে নাব্যতা সংকট এবং ডুবোচরের কারণে সাগর থেকে ইলিশ আসতে পারছে না। এই সব কারণে মেঘনা নদীতে মাছ ধরা পড়ছে না। তবে মৎস্য বিভাগের কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন যে মাস শেষে ইলিশ ধরা শুরু হবে। আবার, সামান্য ইলিশ ধরা পড়লেও তার দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় ৫২ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তাদের সবাই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করছে এখানকার জেলেরা। জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্চ-এপ্রিলে দুই মাস নদীতে ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। ৩০ এপ্রিল মধ্য রাত থেকে আবারো পুরোদমে মাছ শিকার শুরু হলেও কাঙ্খিত ইলিশ মিলছে না।

এসব এলাকায় স্থানীয় প্রায় ৩০টি মাছ ঘাটে আড়তদার এবং জেলেরা মাছ না পেয়ে অলস সময় পার করছেন। মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। পাশাপাশি জ্বালানির তীব্র সংকটও অনেক জেলেকে নদীতে নামতে বাধাগ্রস্ত করছে। ইলিশের এমন দুর্দিনে তাদের হতাশাগ्रস্ত হয়ে পড়ছে। জেলে পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর দিন-রাত নদীতে জাল ফেলে যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকার তেলের খরচও মেটানো যাচ্ছে না। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেও নদীতে কাজ করছে, কিন্তু প্রতীক্ষিত ইলিশ মিলছে না। জ্বালানির সংকটের কারণেও অনেকেই নদীতে যেতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে নদীতে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন মেঘনা পাড়ের জেলেরা। প্রচুর ইলিশ ধরা না পড়ায় মাছঘাটে ব্যস্ততা নেই। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বিদ্যমান নেই। সামান্য কিছু ইলিশ পেলেও সেটা দিয়ে চলতে পারছেন না। বর্তমানে জেলেরা পরিবারসহ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। জেলেদের জালে ইলিশ না পড়ায় তারা চরম বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। এর আগে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষেধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে গিয়ে জেলেরা খালি ফিরছেন। সামনের দিনগুলোতে যদি মাছ না পাওয়া যায়, তাহলে দাদনের টাকা কিভাবে শোধ করবেন, এ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন।

মতিরহাট ঘাটের মাছের আড়তদার মিন্টু মেম্বার সংবাদ মাধ্যম বাসসকে জানান, গত বছর এই সময়ের মৌসুমে ঝাঁক ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়েছে। কিন্তু এবারে নদীতে ইলিশের পরিমাণ খুবই কম। মৌসুমের শুরুতে ইলিশ না পেয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা। গত দুই বছর আগেও এসময় কয়েক টন মাছ আমদানি এবং রপ্তানি হয়েছিল। কিন্তু এবারে মাছের অভাব রয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। মাছ ধরে জেলেরা তাদের আড়তে বিক্রি করবে এমন শর্তে দাদন নিয়েছে। নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা না পড়ায় আড়তে মাছ আসছে না। জেলেরা দেনাও শোধ করতে পারছে না। এবারে দাদনের টাকা ওঠানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

মজু চৌধুরীর হাটে ইলিশ ক্রয় করতে এসে কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। এদের মধ্যে রহিম খান, মারফত মিয়া ও শহিদ উল্যাহ বাসসকে জানান, “ইলিশ কিনতে এসেছি। এসে দেখি ঘাটে কোনো ইলিশ নেই।” তারা জানান, যা দুই একটি মাছ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর দামও অনেক বেশি। এক কেজি ওজনের তিনটি মাছ দেখা যাচ্ছে। দাম শুনে আর কিনতে পারেনি তারা। আজকে দাম চাচ্ছে কেজি দুই হাজার টাকা। শেষে তারা মাছ না নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন বাসসকে জানান, নদীতে ডুবোচর এবং নাব্যতা সংকটের কারণে ইলিশ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং নদীতে পানি উন্নীত হলে ইলিশ ধরা পড়বে। নদীর মোহনা থেকে এখন গভীর সমুদ্র চলে গেছে ইলিশ। মৌসুমের শুরুতে ধরা না পড়লেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করেছেন এই মৎস্য কর্মকর্তা। তবে এবারে ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ৫শ’ মে.টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%