ঢাকা শুক্রবার, ০৮ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শুক্রবার, ০৮ই মে, ২০২৬ইং ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩২বাং

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে কমছে না যাত্রী হয়রানি ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য


হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে কমছে না যাত্রী হয়রানি ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য

নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কিছুতেই কমছে না। বরং সেখানে চোরাকারবারিরা আগে থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্ক্যানার মেশিনের ফাঁক দিয়ে অবৈধ মালামাল বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাগেজ মেটাল ডিটেক্টর ও এক্স-রে মেশিনে স্ক্যানের পরও লাগেজ অবশ্যই ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিআইপি ও ভিভিআইপি শ্রেণির যাত্রীদের লাগেজও বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে স্ক্রিনিং করার কথা বলা হয়েছে। এতে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে আগাম অনুমতির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে এবং সেই অনুমতির তথ্য সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বেবিচক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য বেবিচক চিঠি দিয়েছে। এতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, যানবাহন ও পায়ে টহল বৃদ্ধি, এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: যে এলাকার নেতা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন, সে এলাকায় কি উন্নয়ন হবে না: গোলাম পরওয়ার

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ জনবল উপস্থিত রাখতে হবে এবং ফায়ার সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনুমোদিত যাত্রী ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, প্রবেশ ও প্রস্থানপথে নিরাপত্তা তল্লাশি নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রী, কেবিন ব্যাগেজ ও যানবাহনের তল্লাশি জোরদার এবং স্পর্শকাতর এলাকা ও সীমানাপ্রাচীর এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তা টহল পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যকলাপ শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। সিসি ক্যামেরা মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখতে হবে। ইমিগ্রেশন পুলিশকে আরও সক্রিয়ভাবে প্রতিটি যাত্রীর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করার নির্দেশও রয়েছে। তবে এত নির্দেশনা দেওয়ার পরও শাহজালাল বিমানবন্দরে অপরাধ কমেনি বলে অভিযোগ উঠছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে ৪৭টি দেশের বিমান চলাচল চুক্তি রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার যাত্রী শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে আসা-যাওয়া করে। এত কড়াকড়ি নিরাপত্তার মধ্যে বিভিন্ন অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সোনা চোরাচালান থেকে শুরু করে যাত্রীদের লাগেজ চুরির ঘটনাও প্রায়শই ঘটে।

বিমানবন্দর এলাকার ক্যানোপি-১ ও ক্যানোপি-২ তে দালালদের দৌরাত্ম্যও বেড়েছে। বিদেশফেরত সহজ-সরল যাত্রীদের কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ট্যাক্সিতে তুলে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরেও সংঘবদ্ধ চক্র ট্রলি থেকে ব্যাগ সরিয়ে নেওয়া বা মোবাইল ফোন চুরির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন নৌ অবরোধে কয়েক মাস টিকে থাকতে পারবে ইরান, সিআইএ’র মূল্যায়ন

ডিজিটাল ব্যবস্থার কথা বলা হলেও বাস্তবে ম্যানুয়াল চেকিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমেনি, ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে পড়ছে।

সূত্র আরও জানায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ইমিগ্রেশন কার্যক্রম তিন মিনিটের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে একজন যাত্রীকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হলো। প্রতিদিন হাজার হাজার প্রবাসী, দেশি-বিদেশি যাত্রী ও পর্যটক এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে সেখানে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে ইমিগ্রেশন বিভাগে যাচাই-বাছাইয়ের নাম করে অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিক এবং ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে আসা যাত্রীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও সমন্বয়হীনতার কারণে বেশ কিছু কাউন্টার বন্ধ থাকে। ফলে একটি কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের।

এছাড়া বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এতে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা, নাজুক যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা

বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের মতে, অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির প্রশিক্ষিত কর্মীর সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ আনসার সদস্য বা পুলিশ দিয়েই দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। তাদের অনেকেরই অ্যাভিয়েশন নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নেই।

তবে সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুরো বিমানবন্দর এলাকাকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নাইট-ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া জরাজীর্ণ কাঁটাতারের বেড়া বদলে আরসিসি দেয়াল এবং সেন্সরভিত্তিক শক্তিশালী নিরাপত্তা বেড়া স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরে অপরাধ দমনে ২৪ ঘণ্টা বিশেষ প্রশিক্ষিত টিম টহল দেবে। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন ডেস্কে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমিয়ে আনতে দ্রুত ‘ই-গেট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুলকে রাজশাহীতে স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূরুঙ্গামারীতে আসহাবিছ ছুফফা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষকদের সম্মানী প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাইদুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ এম


ভূরুঙ্গামারীতে আসহাবিছ ছুফফা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষকদের সম্মানী প্রদান

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আসহাবিছ ছুফফা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত ফ্রি কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত শিক্ষকদের মাঝে রমজান উপলক্ষে সম্মানী প্রদান করা হয়েছে।

সংগঠনটির উদ্যোগে শিশু ও বয়স্কদের জন্য সহীহ তিলাওয়াত, তাজবীদ ও মৌলিক দ্বীনি শিক্ষার ক্লাস চালু রয়েছে। মাস শেষে শিক্ষকদের সম্মানী প্রদান করা হয়। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সালমান বিন মোস্তাক শিক্ষকদের হাতে সম্মানী তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের দায়িত্বশীল মাহাদি হাসান শাকিলসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ উপলক্ষে শিক্ষকদের সম্মানে এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতারের এ আয়োজনে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে প্রথম মাসের সম্মানী প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, এই সম্মানী তাদের ইলম, সময় ও খিদমতের তুলনায় সামান্য হলেও এটি আন্তরিকতার একটি প্রতীক।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোরআনের সঠিক শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠানে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তারা বলেন, এটি শুধু একটি কর্মসূচি নয়; বরং কোরআনের আলো সমাজের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। ভালো কাজ শুরু করতে অপেক্ষা নয়, বরং উদ্যোগ প্রয়োজন—এই বিশ্বাস থেকেই কার্যক্রমটি শুরু করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, এ উদ্যোগকে টেকসই ও বিস্তৃত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় কিতাব সরবরাহ, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সহায়তা চলমান সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আসহাবিছ ছুফফা ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা হলেন, সভাপতি: মোঃ আমির হোসেন, সহ-সভাপতি: মোঃ কাজী নাঈম, মোঃ মোখলেসুর রহমান, মোঃ সামিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক: মাওলানা সালমান বিন মোস্তাক, সহ-সাধারণ সম্পাদক: মাওলানা তামিম হোসেন, মোঃ জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ: মোঃ কামরুল ইসলাম (মামুন), সহ-কোষাধ্যক্ষ: মোঃ সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক: মোঃ রাসেদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক: মোঃ আল আমিন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক: মাওলানা আলমগীর হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক: মাওলানা জাকারিয়া জাহিদ, প্রচার সম্পাদক: মাওলানা হামিদুল ইসলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রেনে যোগ করা হবে বিপুলসংখ্যক বাড়তি বগি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ এম


ট্রেনে যোগ করা হবে বিপুলসংখ্যক বাড়তি বগি

পূর্বাঞ্চল রেলপথে ঈদে যাত্রীর চাপ সামাল দিতে ট্রেনে যোগ করা হবে বিপুলসংখ্যক বাড়তি বগি। কারণ ঈদযাত্রার কয়েকদিন আগে ও পরে অন্তত ১০ গুণ বেড়ে যায় যাত্রী চাহিদা। এ কারণে ওই চাপ সামাল দিতে বাড়তি ট্রেন ও কোচ সংযোজনের প্রয়োজন হয়। সেজন্য প্রতি বছরও রেলওয়ের সেরকম উদ্যোগ থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। যদিও স্বাভাবিক সময়ে অনেক ট্রেনই স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশনের চেয়ে কম বগি নিয়ে চলাচল করে। তবে বাড়তি কোচ অনেক ক্ষেত্রে ওই স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশনকে পূর্ণ করতে সহায়ক হবে। আবার অনেক ট্রেনে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশনের চেয়েও বেশি কোচ যুক্ত হবে। এভাবেই ঈদ উপলক্ষে বাড়তি কোচ সংযোজন এবং প্রতিটি ট্রেনে দাঁড়িয়ে যাতায়াতের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যাত্রীর চাপ সামাল দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ টিকিট ইস্যু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মধ্যবর্তী স্টেশন, বেসরকারি পরিচালনাধীন ট্রেনসহ ওই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ। ঈদযাত্রার সময় স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ঘরমুখো মানুষের অনেকেই বেছে নেন ট্রেন। সাশ্রয়ী ও নিরাপদ ভ্রমণের বাহন হিসেবে ট্রেনের জন demanda ব্যাপক। তাই ঈদ সময় প্রতিবারই কয়েক গুণ বাড়তি যাত্রীর চাপ সামলাতে রেলওয়ে হিমশিম খেতে হয়। যদিও প্রতি বছর ঈদে রেলে যাত্রী চাপ বাড়ছে। তবে রেলওয়ে এখনো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।

সূত্র জানায়, রেলওয়ে ওয়ার্কশপগুলোতে ঈদ সামনে রেখে অন্তত তিন মাস আগে থেকেই বগি মেরামতের কার্যক্রম শুরু হয়। ঈদ সামনে রেখে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে বিভিন্ন ট্রেনের ১০৫টি কোচ মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৩ মার্চ পর্যন্ত ৮২টি কোচ অপারেটিং বিভাগকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকিগুলোও শিগগিরই বুঝিয়ে দেয়া হবে। মূলত রেলওয়ের মেকানিক্যাল কর্তৃপক্ষের প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিনটির বেশি কোচ মেরামত করার সক্ষমতা নেই। একইভাবে এবারের ঈদে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েও ১০০টি কোচ মেরামত করে ঘাটতি মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি ব্রড গেজ ও ৪৬টি মিটার গেজ কোচ রয়েছে। মূলত ঈদের আগের ও ঈদ-পরবর্তী তিনদিন যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় ওই সময়ের জন্য কোচ সংযোজন করে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন পূর্ণ করার চেষ্টা করছে রেলওয়ে। আসন্ন ঈদ যাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিরতিহীন সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে সর্বাধিক পরিমাণ বাড়তি কোচ সংযোজন করা হবে। এছাড়া একই রুটের তূর্ণা এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রুটের বিজয় এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটের মেঘনা এক্সপ্রেস ও ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে সর্বনিম্ন একটি থেকে সর্বাধিক তিনটি পর্যন্ত বাড়তি কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। আর ১৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ট্রেনগুলোতে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশনের অতিরিক্ত ওই বগি বাড়তি যাত্রী পরিবহন করবে।

সূত্র আরো জানায়, পূর্বাঞ্চল রেলে প্রতিদিন ১১৯টি লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) চাহিদা রয়েছে। কিন্তু যান্ত্রিক বিভাগের পক্ষ থেকে ৭০-৭৫টির বেশি ইঞ্জিন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছুদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে ৭০-৭২টি ইঞ্জিন। যার ফলে কানেক্টিং ইঞ্জিন দিয়ে ফিরতি ট্রেন পরিচালনা, শিডিউল পিছিয়ে ট্রেন পরিচালনা এমনকি প্রতিদিন কম গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রা বাতিলের মাধ্যমে সার্ভিস পরিচালনা করছে রেলওয়ে। সম্প্রতি রেলের ইঞ্জিন সংকটের মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে ৮-১০টি ইঞ্জিন যাত্রার মুহূর্তে কিংবা পথিমধ্যে বিকল হচ্ছে। ওই কারণে ঈদযাত্রা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিয়মিত সরবরাহের পাশাপাশি আরো ১০-১২টি ইঞ্জিন সরবরাহের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আর ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছরই পরিবহন ও ব্যবসায়িক বিভাগের চাহিদামতো কোচ মেরামতের কাজ করা হয়। এবারের লক্ষ্য ১০৫টির মতো বগি মেরামত করা। মূলত প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল থাকায় চাইলেও এর বেশি কোচ মেরামত করে ট্রেনে সংযোজনের সুযোগ নেই। বর্তমানে রেলের শত শত কোচ ওয়ার্কশপে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই অবস্থায় জনবল সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে দুটি কোচ মেরামত সম্ভব হচ্ছে। ওই ওয়ার্কশপে ২ হাজার ২৫৫ জন জনবলের মঞ্জুরি থাকলেও কাজ করছেন মাত্র ৭১০ জন। সংকট মোকাবেলার জন্য ১৫০ জন অস্থায়ী জনবল দিয়ে কোচ মেরামতের কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।

এদিকে রেলের পরিবহন বিভাগের মতে, ঈদের সময় টিকিটের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও যান্ত্রিক বিভাগের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। রেলওয়ে বগি এবং ইঞ্জিন ঘাটতি নিয়েই ট্রেন পরিচালনা করছে। একটি কোচ নষ্ট হয়ে গেলে মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে দিনের পর দিন আটকে থাকে। প্রতিটি ট্রেনের জন্য কম্পোজিশনের ২৫ শতাংশ স্পেয়ার থাকার কথা থাকলেও তা মানা হয় না। ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছর বাড়তি কোচ সংযোজনের কথা বলা হলেও মূলত ঘাটতি কোচগুলো সমন্বয় করা হয়।

অন্যদিকে রেলের বিপুল পরিমাণ নষ্ট বগি ও ইঞ্জিনের মেরামত অগ্রগতির বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর জানান, নানা সংকটের কারণে পর্যাপ্ত কোচ-ইঞ্জিন মেরামত সম্ভব হয় না। তবে ঈদ সামনে রেখে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কোচ ও ইঞ্জিন মেরামতের জন্য। প্রতিবারের মতো ১০০টির বেশি কোচ সংযোজনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে ঈদের যাত্রী চাহিদা মেটাতে। পাশাপাশি সংকটে থাকা বহরে ১০-১২টি ইঞ্জিনও ঈদের আগে সরবরাহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান জানান, ঈদ সামনে রেখে প্রতি বছরই স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনার উদ্যোগ নেয়া হয়। এবার নির্ধারিত কোচ ছাড়াও প্রায় সব ট্রেনেই বাড়তি কোচ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন আমদানি করা কোচ দিয়ে নতুন রেক তৈরি করে প্রতিস্থাপিত রেকগুলো একাধিক পুরনো আন্তঃনগর ট্রেনে দেয়া হচ্ছে। এজন্য আসন্ন ঈদে যাত্রীরা আগের চেয়েও স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ধুরন্ধর’ ছাড়িয়ে গেল শাকিবের ‘প্রিন্স’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ এম


‘ধুরন্ধর’ ছাড়িয়ে গেল শাকিবের ‘প্রিন্স’

ঈদকে সামনে রেখে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাগুলোর প্রচারণায় এখন সম্পূর্ণরূপে তুমুল প্রতিযোগিতা চলমান রয়েছে। সেই দৌড়ে ইউটিউব ট্রেন্ডিং তালিকায় চমক দেখিয়েছে শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘প্রিন্স’। এই ছবির টিজারটি বলিউড তারকা রণবীর সিংয়ের নতুন সিনেমার ট্রেলারকে পেছনে ফেলে ইউটিউবের ট্রেন্ডিং মুভি তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমার টিজারটি। এক মিনিট ২৯ সেকেন্ডের দৈর্ঘ্যরে এই টিজারটিকে নির্মাতারা ‘প্রি-ব্লাস্ট’ নাম দিয়েছেন। দর্শকদের কাছ থেকেও শাকিবের এই ছবিটি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে।

পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ এই টিজারে শাকিব খানকে গ্যাংস্টারের রূপে তুলে ধরেছেন। লম্বা চুল, সানগ্লাস এবং অ্যাকশনধর্মী উপস্থিতির মাধ্যমে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক ভিন্ন চিত্র সেখানে ফুটে উঠেছে। এছাড়া, টিজারে শাকিব খানকে ‘প্রিন্স’ চরিত্রে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও সংঘাতে জড়াতে দেখা যায়।

শুধু ‘প্রিন্স’ নয়, ইউটিউব ট্রেন্ডিং তালিকায় আরও কয়েকটি আলোচিত সিনেমার অবস্থান রয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে সিয়াম আহমেদ অভিনীত সিনেমা ‘রাক্ষস’ ট্রেলের রয়েছে। গত শনিবার রাতে প্রকাশিত ট্রেলারটি ইতোমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। অন্যদিকে, ট্রেন্ডিং তালিকার তৃতীয় স্থানে রণবীর সিং অভিনীত বলিউড সিনেমা ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ট্রেলার স্হান করে নিয়েছে। চতুর্থ স্থানে ভারতের আরেক সিনেমা ‘টক্সিক’ এবং পঞ্চম স্থানে তানিম নূর পরিচালিত বাংলাদেশের সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর ট্রেলার রয়েছে। হইচই ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর ট্রেলারটিও দর্শকদের মাঝে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। একদিনের মধ্যে এটি প্রায় চার লাখবার দেখা হয়েছে। ইউটিউব ট্রেন্ডিং তালিকায় ‘প্রিন্স’, ‘রাক্ষস’ এবং ‘বনলতা এক্সপ্রেস’- এই তিনটি বাংলাদেশি সিনেমার অবস্থান এখন কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এসব সিনেমা শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে কতটা সাফল্য লাভ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাড়পত্র পেলো রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ এম


ছাড়পত্র পেলো রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’

বর্তমান সময়ের দেশীয় বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ‘পোস্টার বয়’ খ্যাত নির্মাতা রায়হান রাফী। একের পর এক ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দেয়ার ফলে তিনি দর্শকদের মাঝে আস্থার নাম হয়ে উঠেছেন। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আসন্ন ঈদুল ফিতরে বড় পর্দা মাতাতে এখন প্রস্তুত তার নতুন সিনেমা ‘প্রেশার কুকার’। মুক্তির আগে এবার সিনেমাটি সেন্সর বোর্ড থেকে পেয়েছে সবুজ সংকেত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্মাতা নিজেই একটি পোস্টের মাধ্যমে ভক্তদের এই আনন্দের খবর জানিয়েছেন। পোস্টে রাফী তার সিনেমাটি নিয়ে অনেকটা কাব্যিক ঢঙে ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘সব গল্প চিৎকার করে বলা হয় না, কিছু গল্প ধীরে ধীরে ভেতরে ভেতরে ফুটতে থাকে। নতুন দিনের সিনেমা। দেখা হবে সিনেমা হলে।’ নির্মাতার এই পোস্টের পর থেকেই নেটিজেনদের মাঝে সিনেমাটি নিয়ে প্রবল কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমাটি গতানুগতিক ধারার বাইরের গল্প হতে যাচ্ছে। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চারজন প্রভাবশালী নারী চরিত্র। এই চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকারা যেমন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত এবং স্নিগ্ধা চৌধুরী। চার ভিন্ন মেজাজের নারীর রসায়নই এই সিনেমার প্রাণ। সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি পাবে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫৮
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩২
মাগরিব ০৬:৩০
ইশা ০৭:৪৭
সূর্যোদয় : ০৫:২০ সূর্যাস্ত : ০৬:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%