ঢাকা শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিজরী
শনিবার, ১৬ই মে, ২০২৬ইং ০২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩বাং

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ বৈধ, জানাল হাইকোর্ট


জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ বৈধ, জানাল হাইকোর্ট

হাইকোর্ট জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কেন অবৈধ নয় তা জানার জন্য রুল জারি করেছে।

 

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

আরও পড়ুন: কাবাডি খেলোয়াড় মিথিলাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

রিটকারীর আইনজীবী মন্তব্য করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশে সংবিধান সংস্কারের কোনো সুযোগ নেই। তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির নিরিখে সংসদে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অন্যদিকে, রিটের বিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, গণভোট অধ্যাদেশ যদি অসাংবিধানিক হয় তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

০২ মার্চ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ স্থগিত চেয়ে করা রিটের আদেশের জন্য এদিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট শুনানির জন্য ১ মার্চ দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নতুন সময় নির্ধারণ করেছিল।

‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রদলের প্রতিবাদ কর্মসূচি

রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. দোলোয়ার হোসেন খান।

পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকারপক্ষ থেকে তারা সময় নিয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মুখে সেই বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ও দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়।

জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়েরের পর আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, রিটে জুলাই জাতীয় সনদটি সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫ এর কার্যক্রম স্থগিত চাওয়ার বিষয়ে রিট করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বগুড়ায় স্কুল ক্রিকেটের শিরোপা জিতল বীট মডেল স্কুল

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বতী সরকার কর্তৃক জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত গণভোট নির্বাচন অসাংবিধানিক ও অবৈধ। জুলাই জাতীয় সনদের অধীনে গণভোট আয়োজন সংবিধানের ৬৫, ১২৩ (৩) (৪) এবং ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি এবং আরপিওর ১১ অনুচ্ছেদ বিরোধী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৈরুত সংঘাতের ছায়া, ইসরাইলকে কড়া বার্তা হিজবুল্লাহর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


বৈরুত সংঘাতের ছায়া, ইসরাইলকে কড়া বার্তা হিজবুল্লাহর

সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভয়াবহ সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, সংগঠনটি জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আক্রমণ চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে, এটি তারা 'প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ' হিসেবে বর্ণনা করে বলেছে, ইসরাইলের আগ্রাসনের মুখে আর চুপ করে থাকা সম্ভব নয়।

সোমবার (৩ মার্চ) রাতে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গত ১৫ মাস ধরে লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসন চলেছে। সংগঠনটি বলেছে যে, এই আগ্রাসন ঠেকাতে বা ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়নে বাধ্য করতে সকল রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

হিজবুল্লাহ তার বিবৃতিতে আরো বলে, "আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে, জবাবহীন আগ্রাসন চলতে পারে না, হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত থাকতে পারে না। বোধগম্য সব উপায়ে, দৃঢ়তা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই আগ্রাসনের অবসান ঘটানোই এখন প্রয়োজন।"

এই বিবৃতি এসেছে একটি জটিল ইতিবাচক মুহূর্তে, যখন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এক ঘোষণায় বলেন, "হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে" এবং তাদের কর্মকাণ্ড কেবল রাজনৈতিক পরিসর সীমাবদ্ধ থাকবে।

বৈরুতে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘোষণা লেবাননের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ আঞ্চলিক অঙ্গনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াইতে অঙ্গীকারাবদ্ধ, অন্যদিকে, লেবাননের সরকার দেশটিকে যুদ্ধের দামামা থেকে দূরে রাখতে মরিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক চাপ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সামলানোর কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে এর বাস্তবায়ন হবে অত্যন্ত কঠিন।

হিজবুল্লাহর নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। বিশেষ করে লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, হিজবুল্লাহর এই বিবৃতি এবং লেবাননের সরকারের অবস্থানের মধ্যে দ্বন্দ্ব বার্তা দিচ্ছে যে, লেবানন একটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে রয়েছে। যদি হিজবুল্লাহ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন লেবানন আরও বড় সংকটের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহকে সব ধরনের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে, ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সংঘাত থামানোর লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। সূত্র : আল-জাজিরা, রয়টার্স ও লে মোঁদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনি হত্যার পর মোদি সরকারের নিরবতা, মন্তব্য সোনিয়া গান্ধীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

১২:২৩ পি.এম


খামেনি হত্যার পর মোদি সরকারের নিরবতা, মন্তব্য সোনিয়া গান্ধীর

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন।

তিনি সরকারের এই অবস্থানকে ‘নিরপেক্ষ নয়, বরং অবস্থান ত্যাগ’ বলে অভিহিত করেছেন। সোনিয়া গান্ধী দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি কলামে লেখা এই মন্তব্যে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।

গত ১ মার্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হন। এই ঘটনার পর ভারত সরকার এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিয়ে শুধু ‘উত্তেজনা হ্রাসের’ আহ্বান জানিয়েছে।

সোনিয়া গান্ধী তার কলামে লিখেছেন, "প্রাথমিকভাবে মার্কিন-ইসরাইলের বিশাল আক্রমণ উপেক্ষা করে, প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপর ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা করার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। আগের ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা সম্পর্কে কিছু না বলে।"

তিনি আরও বলেন, "যখন কোনো বিদেশি নেতার হত্যার ঘটনায় আমাদের দেশ সার্বভৌমত্ব অথবা আন্তর্জাতিক আইনের কোনো স্পষ্ট লঙ্ঘন দেখতে পায় না এবং নিরপেক্ষতা পরিত্যাগ করা হয়, তখন এটি আমাদের পররাষ্ট্র নীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি করে।"

সোনিয়া গান্ধী উল্লেখ করেন, এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালে। তার ভাষ্যে, "যদি বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নীতিগত আপত্তি ছাড়াই এই ধরনের কাজ সম্পন্ন হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন স্বাভাবিক হয়ে যায়।"

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, খামেনি হত্যার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইসরাইল সফর থেকে ফিরেছেন, যেখানে তিনি নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

সোনিয়া গান্ধী ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত দিকটিও তুলে ধরেছেন। তিনি লেখেন, "ইরান পাকিস্তান সীমান্তের কাছে জাহেদানে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতি সক্ষম করেছে—যা গোয়াদর বন্দর এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) উন্নয়নের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার একটি উপায়।"

সোনিয়া গান্ধী উল্লেখ করেন, তেহরানের সাথে দিল্লির সম্পর্ক শুধুমাত্র সভ্যতার সূত্র থেকেই নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় ভারতের প্রবেশাধিকার এবং চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ইরানের চাবাহার বন্দরের কৌশলগত অবস্থান ভারতের জন্য অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভারত এই মুহূর্তে দুই কঠিন বন্ধুর মধ্যে পড়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, অন্যদিকে ইরানের সাথে জ্বালানি ও বাণিজ্য সম্পর্ক। মোদি সরকার ইতিমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত ৯০ লাখ ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

কংগ্রেস নেত্রীর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারের ইসরাইল-পন্থী নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এই বক্তব্যের জবাব না দিলেও, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা সরকারের অবস্থানকে ‘ভারতের স্বার্থসংরক্ষণে সচেতন পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
রয়টার্সের খবর

করাচিতে কনস্যুলেটে হামলার সময় মার্কিন সেনারা গুলি চালিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

১২:২৫ পি.এম


করাচিতে কনস্যুলেটে হামলার সময় মার্কিন সেনারা গুলি চালিয়েছে

পাকিস্তানের করাচিতে সপ্তাহান্তে ঘটে যাওয়া হামলার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে মার্কিন মেরিন সেনারা বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। এই তথ্যটি প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, যা প্রকাশ করেছে দু’জন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে।

মেরিনদের গুলির ফলে কাউকে আঘাত বা মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা এখনও পরিষ্কার নয়। কর্মকর্তারা আরও জানান, কনস্যুলেট রক্ষার জন্য দায়িত্বে থাকা বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী ও স্থানীয় পুলিশ গুলিবর্ষণে অংশগ্রহণ করেছে কিনা, সেটিও নিশ্চিত না।

ঘটনার সময়ে, বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেট কমপ্লেক্সের বাইরের প্রাচীর ভেঙে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। ওই ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসারদাস হেমনানি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই গুলি চালিয়েছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, তারা কোন বাহিনীর অংশ ছিলেন—মারিন, পুলিশ, কিংবা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেরিনদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে আগের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এটি ঘটনার প্রাথমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং দায়িত্ববন্টনের বিষয়ে নতুন প্রশ্ন তোলেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, করাচির কনস্যুলেটে এই ধরনের হামলা মার্কিন কূটনৈতিক উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঝুঁকির প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখাচ্ছে।

এই হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা সমন্বয় বিষয়ক আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেকোনো জাহাজ যাওয়া মানেই হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই মার্চ, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেকোনো জাহাজ যাওয়া মানেই হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই পরিস্থিতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যে কোনো জাহাজ যদি এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করে, তাহলে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

সোমবার (২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি উল্লেখ করেছেন, "হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ এখান দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করে, তবে বিপ্লবী গার্ড এবং নিয়মিত নৌবাহিনীর বীর যোদ্ধারা সেই জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেবে।"

গনমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত শনিবার থেকে ইরান এই রপ্তানি রুটটি বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও সোমবারের এই বার্তাটি ছিল সবচেয়ে কঠোর এবং সরাসরি হুমকি। মূলত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের ‘তেল বাণিজ্যের ধমনী’ বলা হয়। বিশ্বব্যাপী মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক এবং কুয়েতের মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। ইরানের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ইতোমধ্যে প্রণালী এলাকার উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকায় অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি 'অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল' বা ড্রোনের আঘাতে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ-মিশনগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরান এককভাবে এই জলপথ বন্ধ করতে পারে না। তবে নিরাপত্তার অভাবে অনেক জাহাজ কোম্পানি ইতিমধ্যেই তাদের যাত্রাপথ পরিবর্তন করেছে অথবা যাত্রা স্থগিত করেছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে কি এগোচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য? ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কম্পাউন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরের পর থেকেই তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে। কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনের মতো দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের এই সিদ্ধান্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলকদ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৫২
জোহর ১১:৫৬
আসর ০৪:৩৩
মাগরিব ০৬:৩৪
ইশা ০৭:৫৩
সূর্যোদয় : ০৫:১৬ সূর্যাস্ত : ০৬:৩৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%