প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে দলিত, তফসিলি জাতি, বাংলাভাষী মুসলিম ও রোহিঙ্গাসহ নানা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (ইউএনসিইআরডি)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে সংস্থাটির প্রকাশ করা এক পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।
তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের মিশন পরদিনই প্রতিবেদনটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা প্রত্যাখ্যান করে। দিল্লির পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদনকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' ও 'বিদ্বেষপূর্ণ' বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের এই আন্তর্জাতিক কমিটি মূলত বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ সনদের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে। ইউএনসিইআরডির পর্যালোচনায় ২০১৭ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনার পাশাপাশি ২০২৫ সালে কাশ্মীরের পহেলগামে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলা-পরবর্তী সামাজিক পরিস্থিতির কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছে। এসব প্রেক্ষাপটের পর থেকে রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম, অভিবাসী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আটক, তল্লাশি ও নানা হয়রানি বেড়েছে।
প্রতিবেদনে জাতিগত বিদ্বেষজনিত সহিংসতা, পুলিশি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার মতো গম্ভীর অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় বা জাতিগত পরিচয়ের অজুহাতে জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং সম্মিলিত বহিষ্কার বন্ধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম 'দ্য স্ক্রল'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরে সন্ত্রাসী ঘটনার পর ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সন্দেহভাজন নথিবিহীন অভিবাসীদের পরিচয় যাচাইয়ের বিশেষ আদেশ জারি করে। এরপরই দেশটির কয়েকটি রাজ্যে বাংলাভাষী মুসলিমদের নাগরিকত্বের প্রমাণ চেয়ে হয়রানি ও আইনবহির্ভূতভাবে সীমান্ত পার করে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ ওঠে।
জাতিসংঘের এসব পর্যালোচনার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা, বহুত্ববাদ ও আইনি কাঠামোর তথ্য জাতিসংঘের বৈশ্বিক পর্যালোচনায় স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে। একই সঙ্গে দেশটির সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত সব 'ঢালাও ও ভিত্তিহীন' অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন