প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের চারজন সংসদ সদস্যের ওপর এক বছরের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এসব এমপিরা তাইওয়ান সফর করায় এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে খবর জানায় নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল মে মাসে তাইওয়ান সফর শেষে দেশে ফিরে আসার পর ওই চার সংসদ সদস্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হন। চীনা দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি তারা ক্ষমা চান তবে এই নিষেধাজ্ঞা কমানোর কিংবা প্রত্যাহারের জন্য বিবেচনা হতে পারে।
চীন নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে তাইওয়ানকে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের সম্পৃক্ততা সীমিত করার প্রচেষ্ঠা করে আসছে তারা।
তবে, এটি নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যদের ওপর চীনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা, যারা তাইওয়ান সফর করেছেন। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স এই ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জানিয়েছেন, তিনি এই পদক্ষেপে ‘বিস্মিত’ হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যরা তাইওয়ান সফর করে আসছেন এবং এসব সফর নিউজিল্যান্ডের ওয়ান চায়না নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়।’
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ডের চীনা দূতাবাস জানানো হয়েছে, সংসদ সদস্যরা ‘চীনের গুরুতর উদ্বেগ উপেক্ষা করে’ সংসদ সদস্য হিসেবে তাইওয়ান সফরে অনড় ছিলেন বলেই তাদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফরটি তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি এবং ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী শক্তিগুলোর’ কাছে ‘ভুল বার্তা’ পাঠিয়েছে। এটি চীনের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিবৃতিতে।
মে মাসের ওই সফরে ক্ষমতাসীন জোটের আইনপ্রণেতা মরিন পু, ডেভিড উইলসন ও লরা ম্যাকক্লুর এবং বিরোধী লেবার পার্টির ডানকান ওয়েব অংশগ্রহণ করেছিলেন।
এ বিষয়ে এটিসি পার্টির সদস্য লরা ম্যাকক্লুর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে জানিয়েছেন, এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এক ধরনের ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ এবং তিনি ‘তাইওয়ান সফরের জন্য কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যদের বিশ্বের যেকোনো স্থানে স্বাধীনভাবে ভ্রমণের অধিকার আছে। তিনি বলেন, ‘এটাই একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশে বসবাসের অংশ।’
বিবিসি জানাচ্ছে, নিউজিল্যান্ড ১৯৭২ সালে বেইজিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং এরপর থেকে ‘ওয়ান চায়না’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। এই নীতির আওতায় চীনের অবস্থানকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয় যে, একটিই চীনা সরকার রয়েছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক শুধুমাত্র বেইজিংয়ের সঙ্গে রয়েছে, তাইপের সঙ্গে নয়।
তবে বিশ্বের অনেক দেশের মতো নিউজিল্যান্ডও তাইওয়ানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের বিনিময় কার্যক্রম বজায় রেখেছে।
সূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন