আরমান খান ছামির, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
০১:২৩ এম
আজ ৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সাংবাদিক সমিতি এক বার্তায় মুক্ত সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতি বছর এ দিনে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সত্য প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরতে।
বার্তায় বলা হয়, গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে সাংবাদিকরা নানা সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক সাংবাদিক এখনও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তথ্য সংগ্রহের সময় হেনস্তা, লাঞ্ছনা, এমনকি প্রাণনাশের হুমকির মতো ঘটনাও তাদের পেশাগত জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যায়, অথচ সত্য প্রকাশের দায়ে সাংবাদিকদেরই হয়রানি ও মামলার সম্মুখীন হতে হয়।
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আরমান খান ছামির বলেন, “মুক্ত গণমাধ্যম একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাই, অনেক সাংবাদিক নির্ভয়ে কাজ করতে পারছেন না। সত্য প্রকাশের পথকে বাধাগ্রস্ত করা হলে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বাপ্পি বলেন, “বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, যা মোটেও কাম্য নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।”
সাংগঠনিক সম্পাদক তামিম আহমেদ বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা। আমাদেরকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে। একইসাথে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা।”
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, হাজারো সাংবাদিক গুম, হামলা ও হত্যার আশঙ্কা নিয়েও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের এই ত্যাগ ও দায়িত্ববোধই সমাজে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম শুধু সাংবাদিকদের প্রয়োজন নয়, এটি একটি সচেতন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান। তাই বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ যাতে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরতে পারেন।
আজকের এই দিনে সমিতির প্রত্যাশা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হোক এবং সত্য প্রকাশের পথ হোক আরও উন্মুক্ত ও নির্ভীক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড ও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (৩ মে) বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে এসব সহায়তা প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার, পীরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান চৌধুরী, জাবরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, ভোমরাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন, পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোকাদ্দেস হায়াত মিলন এবং যুবদল সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম রানা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ড ও কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করবে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ ও বিরূপ আচরণ বন্ধ না হলে সামগ্রিকভাবে সাংবাদিক নির্যাতনও বন্ধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “এক পত্রিকার সম্পাদক আরেক পত্রিকার বিরুদ্ধে, এক সাংবাদিক আরেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিরূপ আচরণ যতক্ষণ না বন্ধ হবে, ততক্ষণ সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ হবে না।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক সমাজের ভেতরে ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা জরুরি। নিজেদের মধ্যে বিভক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক বিদ্বেষের কারণে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং এতে করে বাইরের চাপ ও নির্যাতনের ঝুঁকিও বাড়ছে।
আহমেদ আবু জাফর মনে করেন, গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে ন্যায্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিকদের একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে নির্যাতন ও হয়রানি অনেকাংশে কমে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুর পৌরসভার পালপাড়া এলাকার একটি চারতলা ভবন হেলে পড়েছে পাশের আরেকটি ভবনের ওপর। এ বিষয়ে হেলে পড়া ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে পাশের ভবনের মালিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রোববার (৩ মে) দুপুরে, পৌর কর্তৃপক্ষ দুটি ভবনে সতর্কীকরণ নোটিশ টাঙিয়ে ভবন খালি করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর পরই চাঁদপুর পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন, পৌরসভার প্রকৌশলী, শহর পরিকল্পনাবিদ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর বিকেলে ওই দুটি ভবনের বাসিন্দাদের জরুরি নোটিশ টানিয়ে ভবন ছাড়তে বলা হয়।
হেলে পড়া ভবনের পাশের ভবন মালিক শাহ আলম জানান, ২০১২ সালে পৌরসভার নকশা অনুযায়ী তিনি চারতলা ভবনটি নির্মাণ করেন। এর পর তার প্রতিবেশী শাহজাহান পাটোয়ারী তার ভবনের লাগোয়া একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। বর্তমানে শাহজাহান পাটোয়ারীর ভবনটি হেলে তার ভবনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা নিয়ে তিনি আতঙ্কিত।
শাহজাহান পাটোয়ারী মন্তব্য করেন, ‘আমি সৌদি আরব থাকার সময় পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে একটি ঠিকাদারের মাধ্যমে বাড়িটি নির্মাণ করেছি। বর্তমানে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেক্ষেত্রে যদি ত্রুটি থাকে, আমি পৌরসভাকে সহযোগিতা করবো।’
এদিকে, চাঁদপুর পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিন জানান, খুব সম্ভবত মালিকরা পৌরসভার নিয়ম না মেনে ভবন দুটি নির্মাণ করেছেন। এজন্য একটি ভবনের সঙ্গে অন্য একটি ভবন হেলে পড়েছে। আমরা দুটি ভবনেই সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়েছি এবং দ্রুত ভবনগুলো খালি করতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে সুনামগঞ্জের বোরো চাষিরা এক চরম দ্বিমুখী সংকটের মধ্যে পড়েছেন। একদিকে খলায় (মাড়াইয়ের স্থান) রাখা ভেজা ধান শুকাতে সমস্যা হওয়ায় তা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চোখের সামনে হাওড়ের পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অবস্থা এখন এমন, যেন তারা খেত বাঁচাবেন নাকি খলার ধান রক্ষা করবেন, এর মধ্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
টানা বৃষ্টির কারণে গত প্রায় দশ দিন ধরে সুনামগঞ্জের হাজার হাজার কৃষক খলায় রাখা ভেজা ধান শুকাতে পারছেন না। আগে কেটে রাখা ধান বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাড়াই-ঝাড়াই করা যাচ্ছে না, তেমনই মাঠে থাকা পাকা ধানও পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
এই খলায় স্তূপ করে জাঁক দিয়ে রাখা ধানে ইতোমধ্যে শেকড় গজাতে শুরু করেছে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে ধানের মুঠ পচে খড়কুটোর সঙ্গে মেশে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ভিজে থাকার কারণে জাঁক দেওয়া ধানের স্তূপ থেকে প্রচণ্ড গরমে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এতে চালের স্বাদ, রং ও গন্ধে পরিবর্তন আসছে, ফলে তা মানুষের খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। পচে যাওয়া ধান হাঁসের খামারিদের কাছে বিক্রির চেষ্টা করলেও প্রতি মন তিনশো টাকার বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের শফিকুল আলম বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে পাকা ধানখেত ডুবে যাচ্ছে। ১ হাজার ২০০ টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের এনে খেতে ধান কাটাতে হয়। কিন্তু খলার ভেজা ধান শুকাতে না পেরে লম্বা শেকড় গজিয়েছে। জাঁক দেওয়া ধানের মুঠ নরম হয়ে নাড়ায় (খড়) পরিণত হওয়ায় অর্ধেক ধানই নাড়ার সঙ্গে চলে যাচ্ছে।’
একই এলাকার চান মিয়া জানান, ১৫ দিন আগে খেতের পাকা ধান কেটে খলায় জাঁক দিয়ে রাখা সত্ত্বেও বৃষ্টির কারণে তাতে মাড়াই করা যাচ্ছে না। কৃষকরা এমন পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়েননি।
হালুয়ারগাঁও গ্রামের মনসির আলী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে খেতের ধান জলাবদ্ধতায় ডুবছে, অন্যদিকে খলার ধানে শেকড় গজাচ্ছে। জাঁকের ধান ভিজে গরম হয়ে ধোঁয়া উঠছে এবং পচা দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। রোদ না ওঠায় খলা ও জাঁকের ধান দুটোই নষ্ট হচ্ছে।’
হবতপুর গ্রামের বাবু মিয়া জানান, তারা বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বসতঘরের বারান্দা, বেডরুম ও গেস্টরুমের মেঝেতে ধান রেখে ফ্যানের বাতাসে ঠান্ডা রাখছেন। নতুবা এই ধানেও শেকড় গজিয়ে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
রোববার (৩ মে) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা রোদ ওঠায় ধান শুকানোর জন্য কৃষকরা কোমর বেঁধে খলায় নেমে পড়েছেন। জানিগাঁও গ্রামের কৃষক আলম নূর বলেন, ‘রোদ ওঠায় পরিবারের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধ সবাই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা কাজ করেছেন। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে মাড়াই খলা ভিজে গেলে গোবর-পানি দিয়ে লেপে-পুছে মাটি শুকাতে তিন ঘণ্টা লাগে, এরপর ধান বিছিয়ে শুকাতে হয়।’
তবে গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল মালেক আক্ষেপ রেখে বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টা রোদ ওঠায় কৃষকরা আশান্বিত হলেও সূর্য ডোবার পর আকাশ মেঘে ছেয়ে যায়। এক দিনের রোদে ভেজা ধান শুকিয়ে গোলাজাত করা সম্ভব নয়, এর জন্য অন্তত তিন দিনের টানা রোদ প্রয়োজন।’
বাহাদুরপুর গ্রামের মনির উদ্দিনের মতে, ১ হাজার ২০০ টাকা মজুরি দিয়ে ধান কাটার পর তা শুকাতে না পারলে ক্ষতি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তাই খেত কাটার চেয়ে খলার ধান রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে এবার মার্চের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বিভিন্ন হাওড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয় অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে টানা চার দিন কৃষকরা হাওড়ে নামতে পারেননি।
জেলায় এবার ১৩৭টি হাওড়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সম্পূরকভাবে, নিচু অংশে জমির পরিমাণ ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর। রোববার (৩ মে) পর্যন্ত হাওড় ও নন-হাওড় মিলিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। তবে ১৫ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় ২২ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, যাতে লক্ষাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রাথমিক ধারণা, এই জলাবদ্ধতা ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের বাজারদর প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘টানা কয়েকদিন রোদ উঠলে ধান কাটা, শুকানো এবং মাড়াই-ঝাড়াই করে গোলাজাত করা সম্ভব হবে। তবে জলাবদ্ধতায় খেতের পাকা ধান তলিয়ে যাওয়া এবং বৃষ্টির কারণে খলার ধান নষ্ট হওয়া কৃষকদের জন্য এক চরম দ্বিমুখী সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ