প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈরি আবহাওয়ার কারণে আমদানি-রফতানি ব্যবসা বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে। সাগর উত্তাল ও বৃষ্টির ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটারেজ জাহাজ ভিড়তে পারছে না। এ কারণে গত ৩ দিন ধরে ৫০টির বেশি মাদার ভ্যাসেল পণ্য খালাস না করেই অলসভাবে বসে রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের দাবী, তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকার বেশি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর মধ্যে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বুধবার পর্যন্ত ৫৫টি মাদার ভ্যাসেল অবস্থান করছে, কিন্তু পণ্য খালাস করতে পারছে মাত্র ৩টি জাহাজ। বাকি ৫২টি জাহাজ দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য বসে রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ৪৬টি জাহাজের মধ্যে ৭টি এবং সোমবার ৫০টি জাহাজের মধ্যে ১৪টি পণ্য খালাস করতে পেরেছিল। মূলত সাগর উত্তাল থাকায় এবং বর্হিনোঙর এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে পণ্য খালাস বন্ধ রাখতে হয়। বর্তমানে লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল, সাথে ঝড়ো হাওয়াসহ তুমুল বৃষ্টি আসছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, বৃষ্টিতে যেসব পণ্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন: খাদ্যশস্য, সার, এসব পণ্য হ্যান্ডেলিং করতে গেলে ক্ষতি হতে পারে। এর কারণেই হ্যান্ডেলিং বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিশাল আকৃতির মাদার ভ্যাসেলগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান জেটিতে ভেড়ার সুযোগ না পেয়ে বন্দরের নৌ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় অবস্থান নিয়েছে। সেখান থেকে ছোট আকৃতির লাইটার শিপের মাধ্যমে পণ্য খালাস করা হচ্ছে। সাগরের ঝড়ো হাওয়া এবং ঢেউয়ের কারণে দু'টি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের শঙ্কা থাকে। এই অবস্থায় মাদার ভ্যাসেল প্রতি দিন ১৫ থেকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে, বলছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. আরিফ বলেন, ৫৫টি জাহাজের মধ্যে যেগুলো খুলতে হয়না, সেগুলি ব্যতীত অন্য জাহাজগুলোর ড্যামারেজ প্রতি দিন ২০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার আসবে।
প্রবল বর্ষণের ফলে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে বন্দরের কেন্দ্রীক প্রতিষ্ঠানগুলো এর থেকে বাদ যায়নি। সমুদ্র উপকূলবর্তী স্থানে রাখা কন্টেইনারগুলোর মধ্যে পানি ঢুকে যাওয়ায় আমদানি-রফতানি পণ্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে তৈরি পোশাক খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে দাবি করছেন বিজিএমইএ নেতা।
বিজিএমইএ পরিচালক এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে, ফ্যাক্টরিতেও পানি উঠেছে। কন্টেইনারও পানিতে ডুবে গেছে। এখানে বিশাল ক্ষতির সম্ভাবনা আছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান জেটিতে জাহাজ ভেড়া কিংবা কন্টেইনার উঠানামা কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বৃষ্টির কারণে ডেলিভারিতে কিছুটা ধীর গতি রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার কন্টেইনার ডেলিভারি হলেও বুধবার তা দুই হাজার ৬০০-এ নেমে এসেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন