প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামের হাজী আনু মিয়ার বাড়ির প্রতি শত বছর পুরোনো জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও তারা কোন সুরাহা পাচ্ছেন না।
চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে, স্কুল-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করার জন্য, এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরে ৮/১০ টি পরিবারসহ গ্রামের মানুষ ওই রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছিলেন, কিন্তু ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন চিওড়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফোরকান এবং তার ভাই স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোস্তাফিজ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাস্তার একটি অংশ বন্ধ করে দেন। এই কারণে তখন থেকে লোকজনের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে এবং শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে বিকল্প কৃষি মাঠের আইল দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
তবে তখন স্থানীয় কনকাপৈত পুলিশ ফাঁড়িসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোন সুরাহা পাওয়া যায়নি। বরং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
আলহাজ্ব নূর মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, ‘আমরা যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করি, আমরা এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারি না। কৃষি জমির আইল দিয়ে চলাচল করার সময় আমাদের স্কুলে পোষাক নষ্ট হয়ে যায়।
এতে আমাদের পড়ালেখার বিঘ্ন ঘটছে, আমাদের বাড়ির শত বছরের চলাচলের এই পুরাতন রাস্তা উম্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’
স্থানীয় রুহল আমিন, আব্দুল মান্নান, আবুল বাশার, মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ছাত্রলীগের সভাপতি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শত বছরের চলাচলের রাস্তা ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে জোর করে বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তাটি পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন ও অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ১০-১২টি পরিবারের লোকজন অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোন যানবাহন বাড়িতে আসার ব্যবস্থা নেই। ১ থেকে দেড়শ বছর ধরে আমাদের মুরুব্বিরা যে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল, সেই রাস্তাটি কেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে? কেন আমাদের উপরে এই অত্যাচার করা হল, আমরা এর বিচার চাই। আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করি, মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও দ্রুত রাস্তাটি দখলমুক্ত করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।’
এ বিষয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া মোস্তাফিজ জানান, ‘যে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি বলে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি আমাদের ক্রয়কৃত জায়গা।
এনায়েত উল্যাহ গংরা দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের বাড়ির উঠান দিয়ে চলাচল করতো। ধীরে ধীরে আমাদের পরিবার বড় হয়ে যাওয়ায়, আমাদের প্রয়োজনে ঘর করার কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে শত বছরের কোন রাস্তার অস্তিত্ব নেই। বরং তারা আমাদের পরিবারের লোকজনের উপর প্রতিনিয়ত নানান অত্যাচার করে আসছে।’
এ বিষয়ে চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, ‘রাস্তার বিষয়ে আমি শুনেছি। কোন পক্ষ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। এটি সরকারি কোন রাস্তা নয়, এটি ছিল ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তা।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন