প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় অর্থপাচারের উৎস খুঁজতে পুলিশের তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। এই মামলার মূল আট অভিযুক্তর বাড়িতে একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি স্বাধীন সাক্ষী দল সঙ্গে নিয়ে পুলিশ এই তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে।
গত সপ্তাহে সিসিটিভি ফুটেজে চুরির প্রমাণ পাওয়ার পর, মন্দিরের টাকা গণনার কাজে নিয়োজিত এই আট কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পান্ডে, রাম শঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রমাশঙ্কর ওরফে তিন্নু যাদব।
এই আটজনই মন্দিরের দানবাক্সে ভক্তদের দেওয়া নগদ টাকা গণনার জন্য দায়িত্বে ছিলেন। গত দুই দিন আগে একটি স্থানীয় আদালত তাদের সোমবার পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। আগামীকাল তাদের পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে এবং হেফাজতে নেওয়ার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারে পুলিশ।
তদন্তকারী সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত চার বছরে অভিযুক্তরা কী পরিমাণ সম্পত্তি অর্জন করেছেন, সেই বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করতে তাদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিশেষ করে তাদের জমি, গহনা এবং ব্যাংকে জমা টাকার ওপর নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, অভিযুক্তদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তাদের হঠাৎ আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক সময়ে কোনো গাড়ি বা নতুন সম্পত্তি কেনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালীন তিন্নু ও মনীশ যাদবের পরিবার পুলিশকে সহযোগিতা করেনি। তবে অন্য এক অভিযুক্ত অনুকল্প মিশ্রের খালা নেহা মিশ্র পুলিশকে জানিয়েছেন যে, আগে তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই সাধারণ ছিল। কিন্তু অনুকল্প রাম মন্দির ট্রাস্টে কাজ শুরু করার পর থেকেই তাদের জীবনযাত্রায় এক নাটকীয় ও আকস্মিক পরিবর্তন এসেছে।
এই চুরির ঘটনায় মন্দিরের হিসাব থেকে আনুমানিক ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা গায়েব হওয়ার ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৭৯.৮৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু আজকের অভিযানে নতুন করে কোনো অর্থ উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এই চুরির মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চুরির ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসভঙ্গ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন