প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ শনিবার (৬ জুন) জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। এই সমাবেশটি নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী অংশ নিয়েছেন। ভারতের সাম্প্রতিক বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোয় প্রশ্নফাঁসের মতো নানা অনিয়মের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে।
বিক্ষোভের সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (সাদা পোশাকে) বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা (বামে) এবং অন্যান্যদের বিক্ষোভে অংশ নিতে উত্সাহী দেখতে পান। সম্প্রচার মাধ্যম পিটিআইয়ের মাধ্যমে ছবিটি প্রকাশিত হয়।
রঙিন কাগজের তেলাপোকার মুখোশ ও পুস্তিকা হাতে তরুণ প্রতিবাদকারীরা উপস্থিত ছিলেন, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রযুক্তিগত ত্রুটিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।
প্রতিবাদস্থলে উপস্থিত চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভর্তিচ্ছু উত্কर्ष রাজ (১৬) এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে জবাবদিহিতা চাই। এই দেশে কীভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়? এটা কীভাবে ঠিক হতে পারে?’
এই প্রতিবাদ সমাবেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দিপকে, যিনি ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক অভিজিৎ আজ শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে আসেন।
অতিরিক্ত খবর অনুযায়ী: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির নামের সঙ্গে মিলিয়ে তার এই প্যারোডি দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গত মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী অর্জন করেছে।
সাবেক আপ (আম আদমি পার্টি) নেতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দিপকে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের যুবসমাজ আর কাউকে ভয় পাবে না, তারা লড়াই করবে। তেলাপোকারা কখনও কারও ভয় পায় না, তারা মরেও না।’ এ সময় তার সামনে থাকা তরুণ বিক্ষোভকারীরা একসঙ্গে স্লোগান দিতে থাকেন।
আন্দোলনের পটভূমিতে, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সম্প্রতি আদালতের এক শুনানিতে সরকারের সমালোচনাকারী যুবকদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেছেন, যা তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পরে বিচারপতি বলেছেন, তার মন্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান ঘটে। দলটির স্লোগান হচ্ছে — ‘যুবকদের জন্য, যুবকদের দ্বারা, যুবকদের রাজনৈতিক মঞ্চ’। দলের নেতারা চলতি সপ্তাহে প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করেন, যেখানে আজ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
আজ সমাবেশে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন এবং তারা বলেন, যুবসমাজের ক্ষোভ যথার্থ। ২০ বছর বয়সি সার্থক (এক নামে পরিচিত) বলেন, ‘ভারতের মতো দেশে এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর আরও ভালো ব্যবস্থাপনা প্রাপ্য।’
এখনও আরও সংবাদ আছে: তেলাপোকার ঝাঁক কি এবার ব্যালট বাক্সে? ভারতে আলোচনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন প্রবল।
গত মাসে জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বাতিল করা হয়েছে। এই কেলেঙ্কারির ফলস্বরূপ কয়েকজন কিশোর-কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এর আগে প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থাতে বড় ধরনের কেলেঙ্কারিও সংঘটিত হয়েছে।
৫২ বছর বয়সি সপন জ্ঞান, যিনি ছেলেদের সঙ্গে প্রতিবাদে এসেছিলেন, বলেন, ‘যুবকদের এই পরীক্ষাগুলো দিতে হয়। এমন ব্যবস্থা যেন না থাকে, যেখানে পরীক্ষার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা থেকেই যায় না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপির জনপ্রিয়তা ব্যাপক। সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে — যা বিজেপির (৯ মিলিয়ন) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের (১৩ মিলিয়ন) সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি।
দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে লাখ লাখ যুবক যথাযথ চাকরি খুঁজে পাচ্ছে না, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসন্তোষকে বৃদ্ধি করছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) অনুযায়ী, ১৫-২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১৬ শতাংশ।
সম্প্রতি প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও নেপালে যুবকদের নেতৃত্বে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন সরকার পতন ঘটিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ভারতে জেন-জি আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গত ১৬ মে অর্থাৎ মাত্র ২১ দিন আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যা শুরু হয়েছিল একটি ডিজিটাল আন্দোলন হিসেবে এবং তা দ্রুত বড় আকার ধারণ করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিয়ে ছাত্রদের ক্ষোভ, হতাশা ও সন্দেহবাদের মধ্যে এটি এখন জনগণের প্রশ্নগুলো পুনরুদ্ধারের দাবিতে যুক্ত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন