প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ১৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তাদের দ্বারা। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যবর্তী সময়ে কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কয়েক ধাপে অভিযান চলছিল। এ সময় দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুইটি স্থান বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় তৈরি এলজি, ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি রামদা, একটি দামাদা, একটি লোহার কাটার যন্ত্র এবং দুটি মোবাইল ফোন।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—কেলিশহর ইউনিয়নের কিল্লাপাড়া এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন, যার বয়স ৫৪ বছর এবং মো. মহসিন, যার বয়স ৩৩ বছর।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনে জেলা ডিবির একটি বিশেষ দল গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে কেলিশহরের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে কিল্লাপাড়ায় দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পরে একই এলাকার ছাতিভাঙ্গা আফছারের গাছবাগানে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকানো চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি অথবা সংঘাতের কাজে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল কি না সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে অস্ত্র চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেলিশহরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিস্তীর্ণ বাগান ও পাহাড়ি জঙ্গল অপরাধীদের মধ্য সুরক্ষায় আত্মগোপন এবং অস্ত্র লুকানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান কঠোর।
উদ্ধার করা অস্ত্রের উৎস, এগুলো কারা ব্যবহার করত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার করা দুই আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযানে লাগাতার অগ্রগতি চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন