প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কথা বলেছেন যে, দ্বীপদেশটি কখনোই চীনের অংশ হবে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, রবিবার বেইজিংয়ের দিক থেকে আসা ‘লাল সন্ত্রাস’ রোধে তার দল ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) বার্ষিক সম্মেলনে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয়েছে, দুই বছর আগে নির্বাচিত হন লাই এবং তার ক্ষমতাসীন দল ডিপিপি তাইওয়ানের স্বতন্ত্র পরিচয়ের দিকে সমর্থন দিয়ে থাকে। তবে বেইজিং এই অবস্থানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাইওয়ানকে তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে।
সম্প্রতি বেইজিং একটি নতুন ‘জাতিগত সংহতি আইন’ কার্যকর করেছে। এই আইন অনুযায়ী চীনের সীমানার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বেইজিং।
এই আইন তাইওয়ানের জন্য উদ্বেগের কারণ, কারণ এর মাধ্যমে বেইজিং আপনার জন্য তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গ্রেপ্তারের আইনি অজুহাত পাবে অথবা বিচার করতে পারবে।
এমন পরিস্থিতিতে চীনের ‘আইনি যুদ্ধ’ বা ‘লিগ্যাল ওয়ারফেয়ার’-এ ইঙ্গিত রেখে তিনি জানান, শান্তির সময়েও তাইওয়ানকে সজাগ থাকতে হবে।
যদিও চীন এই আইনের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাইওয়ানের ওপর চীনা বিচারব্যবস্থার কোনো এখতিয়ার নেই বলে জানায়।
লাই তার বক্তব্যে স্থানীয় তাইওয়ানিজ ভাষা (হোক্কিয়েন) ব্যবহার করে বলেন, ‘আমি আশা করি দলের কর্মীরা সামনের সারিতে থেকে ঐক্যবদ্ধ হবেন এবং তাইওয়ানের সমাজের ওপর চীনের লাল সন্ত্রাসের হুমকি মোকাবেলা করবেন।’
তিনি আরো বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক ও মুক্ত জীবনধারা রক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে। আমরা কোনোভাবেই ‘গণতান্ত্রিক তাইওয়ান’কে পুনরায় ‘চীনের তাইওয়ান’ হিসেবে পরিণত হতে দেব না।
চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর লাইয়ের এই বক্তব্যের বিষয়টি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে পারেনি। কিন্তু বেইজিং তাকে বরাবরই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে অভিহিত করে আলোচনার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।
ডিপিপির চেয়ারম্যান লাই পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান ইতিমধ্যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যার সাংবিধানিক নাম ‘রিপাবলিক অব চায়না’।
এটি অবশ্যই ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’র আওতায় নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যে কোনো জাতিগোষ্ঠী বা যারা আগে বা পরে এখানে এসেছেন এবং যারা তাইওয়ানের সঙ্গে একাত্ম বোধ করেন, তারাই এই দেশের মালিক। তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবেই এখানকার ২৩ মিলিয়ন মানুষ মিলে নির্ধারণ করবে।’
প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে মাও সে তুংয়ের কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে হেরে ‘রিপাবলিক অব চায়না’ সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে আসে। এরপর থেকে কোনো সরকারই অপরকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং গৃহযুদ্ধের সমাপ্তির জন্য কোনো শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন