প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্রদের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। তারা বলেছে, সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনের পর পশ্চিমা দেশগুলো সামরিক জোটকে আরো শক্তিশালী করতে এবং অস্ত্র কেনা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বের সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে বলে পিয়ংইয়ং দাবি করেছে।
শনিবার, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ন্যাটো নেতারা উত্তর কোরিয়ার বৈধ সার্বভৌম অধিকারকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন। তাদের মতে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ন্যাটো শুধু সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করছে না, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও জোরদার করছে। এই কারণে, তাদের মতে, ন্যাটো সামরিক জোটভিত্তিক মুখোমুখি অবস্থানের শক্তি বাড়াচ্ছে।
গত মঙ্গলবার, তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য নতুন চুক্তির ঘোষণা হয়েছে। একই সময়ে ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর উপর নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছিলেন, সিউল ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। তারা জানিয়েছে, ন্যাটো প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধ ও সংঘাতের জন্য গঠিত একটি সামরিক জোট। ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে ভাবনা না করে, এই জোট নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘকাল ধরে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে চাপ দিয়ে আসছে।
তবে, পিয়ংইয়ংয়ের বিশ্বাস, এই প্রচেষ্টা আর সফল হবে না। তাদের দাবি, নিরস্ত্রীকরণের আলোচনা করতে হলে প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের দিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার নিচে এই দুটি দেশ পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে বলে উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছে। ন্যাটোর যেসব সদস্য পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগির ব্যবস্থায় অংশ নিয়েছে, তাদের ভূমিকাও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের সার্বভৌম অধিকার দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করবে। এর সাথে সাথে, দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর একদিন আগে, শুক্রবার কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সেনাবাহিনীকে আরো আধুনিক এবং শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার আহ্বানের ফলে দেশটি পারমাণবিক শক্তি পরিমাণ ও গুণগত- উভয় দিক থেকেই বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন