প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
খুলনা মহানগরীতে চলতি মাসে আবারও গুলিবিদ্ধ হওয়ার এক ঘটনা সামনে এসেছে। নগরীর হরিণটানা থানার বয়রা আন্ধিরঘাট এলাকায় বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ফাতেমা আক্তার (১৭) নামের এক কিশোরী এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার ক্ষেত্রে বিদ্ধ করা বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না, এটি কি আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি না কি অন্য কিছু।
প্রাথমিকভাবে এক্স-রে ফিল্ম পর্যবেক্ষণ করে পুলিশের ধারণা, এটি একটি এয়ারগানের গুলি হতে পারে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো চূড়ান্ত মতামত পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ ফাতেমাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফাতেমা আক্তার জানিয়েছেন, খালার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি যখন বাড়ি থেকে বের হয়ে উঠানের মাঝামাঝি পৌঁছান, তখন হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। ওই শব্দ শুনে তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর সাথেসাথে ডান পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। নিচে তাকিয়ে দেখেন, তার পা থেকে রক্ত বের হচ্ছে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার ডান পায়ে গুলি সদৃশ একটি ধাতব বস্তু বিদ্ধ রয়েছে। চিকিৎসকরা সেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই বস্তুটি উদ্ধার করে পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি গুলি কি না।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এক্স-রে পর্যবেক্ষণে এটি এয়ারগানের গুলি বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এ পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
এদিকে, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৫ দিনেই খুলনা মহানগরীতে এটি তৃতীয় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটলো। এর আগে ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নগরীর সদর থানার শান্তিধাম মোড়ে দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
৩ জুলাই নগরীর নতুন বাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এক স্কুলছাত্রী। আর ২ জুলাই লবণচরা থানার আশীবিঘা বালুর মাঠ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন রাতুল শেখ (২২) নামের এক তরুণ।
টানা গুলির এসব ঘটনার কারণে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অল্প সময়ের মধ্যে একই মহানগরীতে একের পর এক গুলির ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
অপরদিকে, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য তিনি জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের যেকোনো কর্মসূচির সঙ্গে বিএনপির একাত্মতা থাকবে।
তিনি নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের ইন্ধনে খুলনায় অপরাধ প্রবণতা দিনদিন বেড়ে চলেছে। এজন্য তিনি সচেতন সাংবাদিক এবং নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় নগর বিএনপি কার্যালয়ে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা (এমইউজে) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন