বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং
০৯:৫৪ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে লুটপাটের যে মহোৎসব চলেছে তার চিত্র শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে। গড়পড়তা প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এই টাকা দিয়ে কয়েক ডজন পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেল নির্মাণ করা সম্ভব ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।
বিগত সরকারের লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ আমলে দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই বিশাল অংকের টাকা ব্যবহার করে ২৪টি পদ্মা সেতু বা ১৪টি মেট্রোরেল বানানো সম্ভব ছিল। বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কে বড় মুক্তিযোদ্ধা সে বিষয়ে বাহাস না করে আসুন পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ করি।
ব্যাংক দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে ব্যাংক দখল হতো গোয়েন্দা সংস্থার ভয় দেখিয়ে। আর এখন অনেকে নারায়ে তাকবীর বলে দখল করছে। এই দখলদারিত্ব বন্ধ হওয়া জরুরি।
ব্যাংক দখল ও লুণ্ঠন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আর বর্তমান সময়ের মধ্যে দখলের স্টাইল হয়তো ভিন্ন হয়েছে। তবে লুণ্ঠন বন্ধ হওয়া জরুরি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংস্কারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করার যে কোনো অপচেষ্টা বিএনপি বরদাশত করবে না। বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিল মূলত নির্বাচনের স্বার্থে অনেক কিছুতে আপস করে।
মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামে রক্তের পথ মাড়িয়ে আমরা আজ এই অবস্থানে এসেছি। এই ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা করবেন না। আওয়ামী লীগ আমলে দরিদ্রদের হক যেভাবে ধনীরা লুট করেছে এবং যেভাবে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে, সেটি ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র চেতনার রাজনীতি করলে দেশ এগোবে না। বিরোধী দলকে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদীয় রীতিনীতি মেনে জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান করাই হওয়া উচিত প্রকৃত রাজনীতি। অংশীজনদের সাথে আলোচনা করেই সকল সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বাধীনতার কথা থাকলেও তা অবারিত নয়। বর্তমানে দেশে এবং বিদেশে বসে যেভাবে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কুৎসা রটানো হচ্ছে, সেটা আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, স্বাধীনতার নামে এই কলঙ্কিত ধারা বেশি দূর এগোতে দেওয়া হবে না। গালিগালাজের প্রতিযোগিতায় যারা চ্যাম্পিয়ন হতে চান, তাদের কঠোর বাধানিষেধের আওতায় আনতে আইন মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গুম হওয়া মানুষ আর ফিরে না আসা স্বজনদের যে হাহাকার, তা তিনি নিজের জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছেন। শহীদদের রক্ত আর জনগণের ত্যাগের বিনিময়ে যে গণতান্ত্রিক বিজয় অর্জিত হয়েছে, তাকে কোনোভাবেই কলঙ্কিত হতে দেওয়া যাবে না।
নিজ পরিবারের অনিশ্চিত দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সাড়ে ৯ বছরের নির্বাসন ও বিদেশের জেলখানায় কাটানো সময়গুলো তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।
ইলিয়াস আলীর মতো গুম হওয়া নেতাদের পরিবারের কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের সন্তানরা আজও বাতায়ন খুলে পিতার জন্য অপেক্ষা করে। তাদের সেই অশ্রুর মর্যাদা দিতে হলে আমাদের এমন এক রাষ্ট্র গড়তে হবে, যেখানে আর কোনো মানুষ গুম হবে না, কারো অধিকার হরণ করা হবে না। ২০২৬-এর এই নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি যেন বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক হয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছেন, তারাই বীর মুক্তিযোদ্ধা, এটি এখন সংসদীয় আইনে সাব্যস্ত। এই জাতীয় ইস্যু নিয়ে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করা জাতির জন্য সম্মানজনক নয়।
যারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন অথচ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে দ্বিধায় থাকেন, তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইতিহাসের আকাশে যারা তারা হয়ে আছেন, তাদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববাসী বাংলাদেশের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ পায়নি।
সংবিধান সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কখনোই জুলাই সনদ থেকে বিচ্যুত হয়নি। বরং কিছু দল নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও বিএনপি বরাবরই জনগণের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিল।
তিনি সংবিধানের ধারা উল্লেখ করে বলেন, অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যেকোনো বড় সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি রায়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেই বিএনপি গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। জাতীয় সনদ নিয়ে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি বিরোধী দলীয় সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদকে পাশ কাটিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রক্রিয়া ফ্রডোলেন্ট বা প্রতারণামূলক। জুলাই সনদের মূল দলিলের সঙ্গে বর্তমান কর্মকাণ্ডের কোনো মিল নেই। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এমন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে দেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সংসদকে অবজ্ঞা করে বাইরে ভিন্ন পন্থায় সংবিধান সংস্কারের চেষ্টা চলছে, যা দেশের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে তারা নির্বাচনে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে ২১৪ জন সদস্যের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে এসেছেন। তিনি টু-থার্ড মেজরিটি বা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই শক্তি না থাকলে অতীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কিংবা মুক্ত গণমাধ্যম আসত না।
তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির জন্য নাম চেয়েও পাওয়া যায়নি, অথচ বাইরে সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ যখন কোনো গণভোট হয়নি, তখন কোন এখতিয়ারে ব্লু পেপারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম তৈরি করা হলো। তিনি একে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পদে পদে সংবিধান ভায়োলেশন করা হচ্ছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি অচলাবস্থা নিরসনে সংবিধান সংশোধনেরও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর অধিকাংশ ধারা এখনো বিদ্যমান। এর কারণে সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর আস্থার বিষয়টি প্রতিফলিত হচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন করেন, বিরোধী দল কি এখনও সেই বিতর্কিত সংশোধনীগুলোই বহাল রাখতে চায়? প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ এবং তাদের স্বার্থে একটি ভবিষ্যৎমুখী সংবিধান প্রণয়ন করতে গেলে অবশ্যই সংসদীয় কমিটিতে আসতে হবে।
বিএনপির ইতিহাসকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় রাজনীতি প্রবর্তনের ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বর্তমান গ্লোবাল অর্ডারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) নিজের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ঠেকাতে ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের আইনজীবীরা আপিল করেছেন।
দ্য হেগভিত্তিক আদালতের বরাতে, দ্য হেগ থেকে এএফপি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে, দুতের্তের আইনজীবীরা আইসিসির দেওয়া অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তার ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-এর সময় সংঘটিত কথিত অপরাধের অভিযোগে মামলা চলছে। ওই অভিযানে হাজারো মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ৮১ বছর বয়সী সাবেক ফিলিপাইন নেতা বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ এনেছেন প্রসিকিউটররা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৭৬টি হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে গণ্য করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে সপ্তাহব্যাপী শুনানি শেষে, প্রাক-বিচারিক বিচারকরা মত দিয়েছেন যে, দুতের্তে ওই হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে ছিলেন বলেও বিশ্বাস করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।
বৃহস্পতিবার আইসিসির একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, অভিযোগ গঠনের ক্ষেত্রে আদালত ‘অগ্রহণযোগ্যভাবে নমনীয়’ পদ্ধতি অনুসরণ করেছে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগ গঠনের পক্ষে আদালত ‘যুক্তিসংগত প্রমাণভিত্তিক ব্যাখ্যা’ দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ।
আপিল ব্যর্থ হলে, দুতের্তে হবেন আইসিসিতে বিচারের মুখোমুখি হওয়া এশিয়ার প্রথম সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান। বিশ্বে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ—যেমন যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ—বিচার করার কাজ আইসিসির।
এরই মধ্যে আদালত মামলাটির জন্য তিন বিচারকের একটি প্যানেল নিয়োগ করেছে। তবে বিচার শুরু হতে আরও কিছু মাস সময় লেগে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহষ্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক টিএমএ মুমিন সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাদিয়া আফরিন, রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসানসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা সদর এবং রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভায় জানানো হয়- আগামী ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আত্রাই উপজেলার পতিসরে কবির নিজস্ব জমিদারি কাছারিবাড়িতে এক দিনের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ শিরোনামে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন এই আয়োজন করবে। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে সকালে দেবেন্দ্র মঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় দেশের প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক, গবেষকগণ কবির কর্মময় জীবনী ও বিভিন্ন সৃষ্টিকর্ম তুলে ধরে আলোচনা করবেন। বিকেলে একই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় জেলা সদর, আত্রাই ও রানীনগর উপজেলার শিল্পীদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহের বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী অংশগ্রহণ করবে। এছাড়া পতিসর কাচারিবাড়ির আঙ্গিনায় গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হবে এবং দর্শনার্থীদের জন্য কাচারিবাড়ি উন্মুক্ত রাখা হবে।
অন্যদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এতে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
অনুষ্ঠানসমূহ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন উপ কমিটি গঠন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্যাংকিং খাতে সুষম তারল্য অবস্থা বজায় রাখা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ওপেন মার্কেট অপারেশনস সম্পর্কিত নির্দেশিকা’ কার্যকরের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের (ডিএমডি) পক্ষ থেকে আজ এক সার্কুলার জারি করা হয়, যাতে সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জারি করা ডিএমডি সার্কুলার লেটার নং-০২ এর মাধ্যমে ‘গাইডলাইনস ফর ওপেন মার্কেট অপারেশনস’ জারি করা হয়, যা ৩ মে ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে অনিবার্য কারণে ওই গাইডলাইনের কার্যকারিতা তারিখ পরিবর্তন করে চলতি বছরের ১ জুন পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, তারিখ পরিবর্তন ছাড়া সার্কুলারে বর্ণিত অন্যান্য সকল নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
নতুন নির্ধারিত তারিখ থেকে গাইডলাইন কার্যকর হলে ব্যাংকিং খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার বিরোধী মিছিল করার অভিযোগে যশোরে সাবেক এক প্রতিমন্ত্রী এবং পাঁচ সংসদ সদস্যসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৮০-১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই আশরাফ উদ্দিন আজ সন্ত্রাস বিরোধী আইনে এই মামলা করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে যশোর- ৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়, যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তথা সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াকুব আলী এবং সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম ফন্টু চাকলাদার, নিষিদ্ধ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু চাকলাদার, সাবেক সংসদ সদস্য রণজিত রায়ের ছেলে রাজীব রায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের ছেলে শুভ ভট্টাচার্যের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মামলার বাদী এসআই আশরাফ উদ্দিন এজাহারে উল্লেখ করেছেন, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যশোর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে আজিজ সিটি রোডে একত্রিত হয়। এসময় তারা ৮০ থেকে ১০০ জন নেতা-কর্মী সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেয়। সংবাদ পেয়ে তিনি সেখানে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। আসামিদের মধ্যে প্রথম ১৩ জন এই নিষিদ্ধ সংগঠনের গডফাদার ও অর্থ যোগানদাতা। বাকি ২৭ জন নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, সন্ত্রাসী এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়। তারা এখনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ধারা ভঙ্গ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যুবলীগের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিল করার অপরাধে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ