প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার ফরম ফিলাপ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিভিন্ন খাতে ফি বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফরম ফিলাপ সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। তবে ফি কাঠামো নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন এবং এর যৌক্তিকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি সেমিস্টারে বিভিন্ন খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হলেও বাস্তবে এসব ফি-এর বিপরীতে কী ধরনের সেবা বা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছ হিসাব শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয় না। অনেক কার্যক্রমই বাস্তবে সীমিত বা দৃশ্যমান নয় বলে তারা দাবি করছেন।
অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার (ক্লাস টেস্ট ও কুইজ টেস্ট) জন্য নির্ধারিত ফি, রোভার স্কাউট, অভিভাবক দিবস, নিরাপত্তা, আইসিটিসি, মসজিদ উন্নয়ন, ধর্মীয় তহবিল, সাইকেল গ্যারেজ, বিবিধ, ম্যাগাজিন এবং বিএনসিসি ফি এসব খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব খাতের অনেক কার্যক্রম বাস্তবে যথাযথভাবে দৃশ্যমান নয়। উদাহরণ হিসেবে ক্লাস টেস্টের ক্ষেত্রে আলাদা প্রশ্নপত্র না থাকা, শিক্ষার্থীদের নিজস্ব খাতা ব্যবহার এবং কিছু ক্ষেত্রে সীমিত অবকাঠামোগত সুবিধার কথাও তারা তুলে ধরেন।
এছাড়া রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি ফি সকল শিক্ষার্থীর ওপর আরোপ করা হলেও সবাই এসব কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে মসজিদ উন্নয়ন, ধর্মীয় তহবিল ও সাইকেল গ্যারেজ ফি নিয়েও শিক্ষার্থীরা এর ব্যবহার ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, প্রতি সেমিস্টারে প্রায় ১ কোটি টাকার মতো অর্থ বিভিন্ন খাতে আদায় করা হলেও এর নিরীক্ষিত ও বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হয় না। ফলে অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতি খাতে আদায়কৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ ও নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশ, অপ্রয়োজনীয় ও বিতর্কিত ফি পুনর্বিবেচনা, এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিশ্রুত সেবা ও সুবিধা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপ চান। তাদের দাবি, কোন খাতে কত টাকা আদায় করা হচ্ছে এবং তা কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে এর পূর্ণাঙ্গ ও নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশ করা হোক।
এ বিষয়ে ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন