প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেষবার আর রূপকথার মতো সম্পন্ন হলো না। আর্জেন্টিনাকে আরেকটি ট্রফি উপহার দেওয়ার স্বপ্ন অসম্পূর্ণই রয়ে গেল লিওনেল মেসির।
চার বছর আগে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে কেঁদেছিলেন তিনি। এবার ফাইনালে হারের পর দীর্ঘ সময় ধরে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। তার চোখের জলই বলে দিল তার মনের সব কথা।
ফাইনালে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারেননি মেসি। গোটা ম্যাচে তাকে কার্যত নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলো স্পেনের রক্ষণভাগ। শেষ মুহূর্তে একটি শট এবং কয়েকটি কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি করা ছাড়া স্মরণীয় কিছুই করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এর ফলে তাকে শেষ মুহূর্তে পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়।
চার বছর আগে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের সময় আনন্দাশ্রু ঝরেছিল মেসির চোখে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই অনুভূতি তিনি লুকাতে পারেননি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ তিনি আগেই পেয়েছেন, তাই ম্যাচ শেষে শুরুর দিকে তাকে শান্ত ও নির্লিপ্ত মনে হচ্ছিল।
কিন্তু সেই দৃঢ়তা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই কিছুক্ষণ মাঠের মাঝখানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মেসি। দুই হাত কোমরে রেখে চারপাশে তাকাচ্ছিলেন গ্যালারি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত অসংখ্য আর্জেন্টিনা সমর্থকের দিকে যেন তিনি শেষবারের মতো তাকাচ্ছিলেন। কিছু সতীর্থ এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং এরপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে মাঠেই বসে পড়েন লিও।
এ সময় এগিয়ে আসেন লামিন ইয়ামাল। ফাইনালের আগে যাদের লড়াই নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল, সেই ইয়ামালই ম্যাচ শেষে মেসিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন। ধীরে ধীরে আর্জেন্টাইন মহাতারকা উঠে দাঁড়ান। পরবর্তীতে সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ প্রদক্ষিণ করে সমর্থকদের অভিনন্দন ও ভালোবাসার জবাব দেন। পরে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান তিনি।
মেসিকে দেখে মনে হচ্ছিল ক্রমশ মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে চাইছেন। কিন্তু ঠিক তখনই গ্যালারিজুড়ে ধ্বনিত হয়—‘মেসি, মেসি’। হাজারো সমর্থক করতালি এবং স্লোগানে বিদায় জানান তাদের প্রিয় ফুটবলারকে। সেই ভালোবাসার জবাব দিতে গিয়েই আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।
এটাই যে মেসির শেষ বিশ্বকাপ, তা অনেকের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাকে আবার দেখা যাবে কি না সেটিও এখন বড় প্রশ্ন। হয়তো এই বিশ্বকাপ খেলতেই তিনি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আরও কিছুদিন বাড়িয়ে ছিলেন। শেষবারের মতো দেশকে ট্রফি জেতানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।
শেষ পর্যন্ত চোখের জল নিয়ে টানেলের পথে হাঁটলেন লিওনেল মেসি। যদি এটি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় হয়, তবে তা শেষ হলো একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন এবং কোটি ভক্তের হৃদয়ভাঙার গল্প হয়ে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন