প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সরকার আমদানিতে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা মূলত বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার এবং অবৈধ অর্থ স্থানান্তর প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে। একই সময়ে, আমদানি প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বড় অঙ্কের আমদানির ক্ষেত্রে নজরদারি আরও শক্তিশালী করেছে। এখন থেকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি মূল্যের আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। এই নিয়মের লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা এবং নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে হতে পারে বলে জানা গেছে।
নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এ উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ব্যাংকগুলোকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, বিদেশি রপ্তানিকারক, পণ্যের বিবরণ, মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক নথি নিবিড়ভাবে যাচাই করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বড় অঙ্কের আমদানির ঋণপত্র খোলার পূর্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির আওতায় আসবে। ফলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং আমদানিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ ১৩ আগস্ট বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের ১ নম্বর সার্কুলারের ৩০ নম্বর নির্দেশনায় এসব বিধান উল্লেখ করেছে। সার্কুলারে আমদানি লেনদেন সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান একীভূত করার পাশাপাশি বড় অঙ্কের আমদানি, ঋণপত্র খোলা, পণ্যের তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ ও রিপোর্টিংয়ের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থায় ৩০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে ঋণপত্র খোলার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে অনলাইন আমদানি তদারকি ব্যবস্থায় তথ্য দিতে হবে। সরকারি আমদানি এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বড় অঙ্কের আমদানির ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়ন, ভুল পণ্যের বিবরণ, ভুয়া বাণিজ্যিক লেনদেন এবং আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার প্রতিরোধ করা। বিশেষ করে, কোনো পণ্যের প্রকৃত মূল্য থেকে অস্বাভাবিক বেশি মূল্য দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাঠানো হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
সাবেক অর্থউপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড, সালেহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছেন, "যেকোনো অঙ্কের আমদানিতে ঋণপত্র খোলার আগে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা উচিত।" তিনি উল্লেখ করেন, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের পরিচয় যাচাই এবং পণ্যের মূল্য ও বাণিজ্যিক নথি পরীক্ষা এই তিন স্তরের নজরদারি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন