প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম আড়তে বর্ষার শুরুতেই ইলিশের ঝিলিক দেখা গেলেও দাম নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় ২০০ টাকা। ফলে ছুটির দিনে আড়তজুড়ে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও বাড়তি দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
শুক্রবার (১৯ জুন) মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী তীরবর্তী মিরকাদিম আড়তে দেখা যায়, বর্ষার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে বড় ইলিশের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দাম উল্টো ঊর্ধ্বমুখী। এতে আড়তে আসা ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আড়ত ঘুরে দেখা যায়, এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৭০০ টাকায়। এক কেজির বেশি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা কেজি দরে। ছোট ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে, আর মাঝারি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ থেকে ২২০০ টাকা কেজি দরে।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকার পরও হঠাৎ করে দাম বাড়া অস্বাভাবিক। তাদের অভিযোগ, আড়তে একটি প্রভাবশালী চক্র বা সিন্ডিকেটের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সামাদ নামে একজন ক্রেতা বলেন, 'গতকাল যে দামে মাছ দেখেছি, আজ এসে দেখি কেজিতে ২০০ টাকা বেশি। দাম কমার কথা থাকলেও উল্টো বাড়ছে। সাধারণ মানুষ তো এভাবে ইলিশ কিনতে পারবে না। মনে হচ্ছে সিন্ডিকেটই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।'
তবে বিক্রেতারা সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, নদীর পরিবেশগত পরিবর্তন ও নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি ইলিশের প্রজনন ও সরবরাহ।
মিরকাদিম মৎস্য আড়ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, 'নদী দূষণ, কারেন্ট জালের দাপট এবং অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। এতে ডুবো চরের সৃষ্টি হয়ে মিঠা পানিতে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। তাই সরবরাহ থাকলেও বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না। জাটকা সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে, তখন দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।'
মিরকাদিম আড়তে শুধু ইলিশই নয়, চিতল, মৃগেল, কাতল, আইড়, বোয়াল, কৈ ও শিংসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছও বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ভোরে শুরু হওয়া এই আড়তে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টায় প্রায় কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন