প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজে মাঝ-আকাশে ঘটেছে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আকাশসীমায় উড়তে উড়তে আচমকাই তীব্র ঝাঁকুনির মুখে পড়ে উড়োজাহাজটি। কিছু বুঝে উঠার আগেই হু হু করে সেটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসে। মাঝ-আকাশে এমন আকস্মিক ও অনিয়ন্ত্রিত অবতরণের ধাক্কায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। কোনো কিছু সামলে ওঠার আগেই ঘটে যায় একটি বড়সড় অঘটন।
এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এয়ার ইন্ডিয়ার 'এআই২৩৭৯' নম্বর ফ্লাইটে। মঙ্গলবার ফুকেট থেকে যাত্রা শুরু করার সময় পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বেলা সোয়া ১১টা নাগাদ দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল বিমানটির। তবে মাঝ-আকাশের এই বিভীষিকার পর কিছুটা বিলম্বে অবশেষে দিল্লির মাটিতে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ফ্লাইট চলাকালীন মাঝ-আকাশে হঠাৎই প্রবল 'এয়ার-টার্বুল্যান্স'-এর কবলে পড়ে বিমানটি। উড়োজাহাজটিতে থাকা পাইলট অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে যখন তিনি পরিস্থিতি সামলে উঠতে সক্ষম হন, ততক্ষণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে উড়োজাহাজটি অনেকটা নিচে নেমে গিয়েছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে উড়োজাহাজটি ৩০০ ফুট উচ্চতা হারিয়ে ফেলে।
এমন আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন এবং তীব্র ঝাঁকুনির ফলে বিমানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। হঠাৎ ধাক্কায় অনেক যাত্রী আসন থেকে ছিটকে পড়েন এবং তাদের সামলাতে না পেরে আহত হন। এই ঘটনায় বিমানকর্মী ও যাত্রী মিলে অন্তত ১৪ জন জখম হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।
আকাশপথে উড্ডয়নকালে আবহাওয়ার গোলযোগ বা দুর্যোগের কারণে বিমান প্রায়শই এ ধরনের 'এয়ার-টার্বুল্যান্স'-এর মুখে পড়ে। সচরাচর পাইলটরা আগে থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে যাত্রীদের সতর্ক করেন এবং সিটবেল্ট বেঁধে রাখার নির্দেশনা জারি করেন। তবে এই ক্ষেত্রে আগাম কোনো সতর্কবার্তা বা বার্তা জারি করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে ক্ষতির মাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিস্থিতি গুরুতর বুঝে বিমানটি দিল্লিতে অবতরণের পূর্বেই স্থানীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত অবগত করেন পাইলট। বার্তা পাওয়ার সাথে সাথে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রানওয়ে সংলগ্ন এলাকায় জরুরি মেডিকেল টিম ও উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখেন।
বিমানটি নিরাপদে নামার পরপরই চিকিৎসকরা দ্রুত বিমানের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একজন বিমানকর্মী গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং তাকে বিশেষ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আঘাতপ্রাপ্ত কয়েকজন যাত্রীর জন্য দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন