প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে সর্বভারতীয় নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা নজিরবিহীন ছাত্র-যুব আন্দোলনের মুখে, দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই আন্দোলনের প্রকৃত প্রভাব একজন মন্ত্রীর পদত্যাগে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ‘অপরাজেয়’ ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, মোদির ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক অপূর্বানন্দের লেখা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সে কারণে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে মোদির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। টানা এক দশকের বেশি সময় ধরে মোদিকে ঘিরে যে ‘অলৌকিক’ এবং ‘অধরা’ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল, তরুণদের প্রতিবাদ, ব্যঙ্গচিত্র এবং উপহাসে তা ভেঙে পড়তে শুরু করেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ ও প্রতিবাদের নতুন ভাষা
বিশ্লেষণে বলা হয়, আন্দোলনের পেছনে শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম নয়, তরুণদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও সামাজিক অবমূল্যায়নও কাজ করেছে। ভারতের প্রধান বিচারপতির বেকার তরুণদের ‘কাকরোচ’ বা তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করে করা মন্তব্যের জবাবে আন্দোলনকারীরা ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) গড়ে তোলেন। তারা হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড, পিচবোর্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিমের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ভাঙল ভয়
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, মূলধারার গণমাধ্যম যখন সরকারের প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন সাধারণ তরুণরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই তাদের প্রধান রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করেন। ২০ জুলাই, পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করলেও আন্দোলনকারীরা পিছু হটেনি। পরে, প্রধানমন্ত্রী মোদি তরুণদের ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করলে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জবাব দেন, ‘আমরা আপনার বন্ধু নই।’ বিশ্লেষণে বলা হয়, এই প্রতিক্রিয়াই মোদিকে ঘিরে তৈরি কর্তৃত্বের ভাবমূর্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।
ভারতের রাজনীতিতে নতুন বার্তা
আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা টিকে থাকে জনগণের ভয় এবং অন্ধ আনুগত্যের ওপর। দিল্লির যন্তর মন্তরে তরুণদের আন্দোলন সেই ভয় ভাঙার প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছেড়ে গেলেও তারা যে প্রতিবাদের ভাষা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরী করেছে, তা সহজে মুছে যাওয়ার নয়। বিশ্লেষণের মতে, ভারতের তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে, শাসক যত শক্তিশালীই হোক, জনগণের সোচ্চার কণ্ঠের কাছে শেষ পর্যন্ত তাকে জবাবদিহি করতেই হয়।
সূত্র: আল জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন