প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঢাকা সিটিতে একটি মাল্টি-মোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে সমন্বিতভাবে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই পদক্ষেপগুলির অংশ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং এর ব্যবস্থাপনা কী হতে পারে, সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ঢাকা সিটি সহ দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ তথা পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসবে।
সোমবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের ৭১ বিধিতে প্রদত্ত নোটিশের পর তার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
শওকত আরা আক্তার কার্যপ্রণালীবিধির ৭১ ধারায় জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে মনোযোগ আকর্ষণ করতে একটি নোটিশ দেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে সব গণপরিবহনকে বৈদ্যুতিক অথবা পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তর করার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি একটি বৈশ্বিক বিষয়, এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। দেশে কার্বন নিঃসরণের বৃদ্ধি তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বন, নদী এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে ক্ষতি হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র ধাক্কা খাচ্ছে।
এছাড়া, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে যা সার্বিক অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ২৪ শতাংশ আসে পরিবহন খাত থেকে। বাংলাদেশের পরিবহন খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ১১.৬ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয়, যা জাতীয় কার্বন নিঃসরণের ৯ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ থেকে ৯০ শতাংশ আসে সড়ক পথে, যেখানে ডিজেলচালিত বাস এবং ট্রাক সবচেয়ে বেশি দায়ী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য গণপরিবহনে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক অথবা পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
নোটিশে শওকত আরা আক্তার আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে গণপরিবহনকে ক্রমশ বিদ্যুৎচালিত যানবাহনে রূপান্তর করতে হবে। সিএনজি এবং এলএনজি ডিজেল ও পেট্রলের তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণ করে তাই সেগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি করা যেতে পারে। স্থায়ী সমাধান হিসেবে বায়োডিজেল, বায়োগ্যাস, সবুজ হাইড্রোজেন এবং পেট্রলের সঙ্গে ইথানল ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে এবং সৌর বিদ্যুৎ থেকে চার্জ হওয়া পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
নোটিশটির পর শওকত আরা আক্তার সংসদে প্রশ্ন করেন, ঢাকার রাস্তায় জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হলো ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইক। সকালবেলার কাকডাকা ভোর থেকে লাখ লাখ এই রাস্তায় নেমে আসে। ব্যাটারিচালিত রিকশায় কম খরচে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। আবার চালকের শারীরিক পরিশ্রমও কম হওয়ায় যাত্রী ও চালক উভয়েই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এদিকে, এসব রিকশা পরিচালনা করে কম কার্বন নিঃসরণ হওয়ায় পরিবেশের জন্য ইতিবাচক। কিন্তু এটির মাত্রাতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি তীব্র যানজট, দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। চালকরা অদক্ষ হওয়ার কারণে এবং তাদের কোনও ধরনের লাইসেন্স প্রশিক্ষণ বা ট্রাফিক জ্ঞান না থাকার ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।
সম্পূরক প্রশ্নে শওকত আরা আক্তার জানতে চান, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ না করে এগুলোর মান উন্নয়ন এবং কোনো একটি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার মাধ্যমে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো ব্যবস্থা আছে কি না?
এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যেটা উল্লেখ করেছেন সেটা বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর কেন্দ্রিক। এটি সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এটি নিয়ন্ত্রণ করে না, তার এখানে হস্তক্ষেপের সুযোগও কম। তবে, ঢাকায় একটি মাল্টি-মোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ইতোমধ্যে সমন্বিতভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেসব পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কীভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং তার ব্যবস্থাপনা করা যায়, সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বিশেষ করে ঢাকা সিটি এবং সারাদেশে ব্যাটারি চালিত যান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কিংবা পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট নির্দেশনা আসবে, তার আলোকে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন কাজ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন