প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার প্রয়াত পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির তুলনায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে অত্যधिक আগ্রহী। এ বিষয়ে তিনি বাবার নীতি পরিবর্তন করে নিজের দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, প্রকাশ্য মঞ্চে মোজতবা খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের পক্ষে সরাসরি কোনো অবস্থান গ্রহণ করেননি। তবুও, তিনি এবং তেহরানের বর্তমান কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ইরানকে পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করতে যথেষ্ট আগ্রহী। মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার সান্নিধ্যে, তেহরানের এই সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ও আগ্রাসী পদক্ষেপের জন্য বিপরীতমুখী পরিণতি হিসেবে দেখা দিচ্ছে, বলছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন, যিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরান শাসন করেছিলেন। আলি খামেনির শাসনামলে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রযুক্তিগতভাবে দুর্বার গতিতে এগিয়ে গেলেও, তিনি পারমাণবিক বোমার নির্মাণের বিপক্ষে ছিলেন। তবে, তার মৃত্যুর পর দেশটির শীর্ষ ক্ষমতায় আসা তার পুত্র মোজতবা খামেনি ও নতুন নেতৃত্ব সেই দীর্ঘ সময়ের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন বলেই মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। যদিও এই সংঘাতের সময় মোজতবা খামেনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং তার জনসমক্ষে আসার পরিমাণ অনেকটা হ্রাস পেয়েছে, তবু তিনি বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের পদে রয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, আয়াতুল্লাহ মোজতবার মানসিকতা ও চিন্তাভাবনাসংক্রান্ত বেশিরভাগ তথ্য বর্তমান সংঘাত শুরুর আগে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাঁর পিতা যেভাবে নিরঙ্কুশ ও একক কর্তৃত্বে রাজত্ব করেছিলেন, মোজতবা এখনও সেই রকমের প্রভাব তৈরি করতে পারেননি।
ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার মেরুকরণের পাশাপাশি, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আক্রমণাত্মক ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষ বিশেষভাবে, তেহরানের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ এখন হরমুজ প্রণালির ওপর আগে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। একই সাথে, সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ দর-কষাকষিতে ইরান আপসহীন এবং কঠোর রূপ পরিগ্রহ করেছে। অন্যদিকে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে আরও বাড়ানোর চিন্তা করছেন, ঠিক তখনই আমেরিকান গোয়েন্দাদের এই নতুন মূল্যায়ন প্রকাশিত হলো।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, মোজতবার পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের এই নতুন সম্ভাবনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ইরানে সামরিক অভিযান বাড়ানোর জন্য একটি অতিরিক্ত যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করছে।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইরান এখনও পর্যন্ত তাদের স্তব্ধ পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করেনি। তবে, বিশেষ করে আমেরিকান বিমান হামলার হাত থেকে নিজেদের পারমাণবিক সম্পদ ও পরিকাঠামো রক্ষার জন্য তেহরান সতর্ক ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর অংশ হিসেবে, তারা বেশ কিছু স্পর্শকাতর সেনট্রিফিউজ স্থানান্তর শুরু করেছে। মধ্য ইরানের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে এসব পারমাণবিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করা হচ্ছে, যা মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত।
সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন তেহরানকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে বিরক্ত করা বাদ দিয়ে বরং তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জয়ের পথেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন