প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা, বিশেষ করে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আবেগ, এটি একটি নতুন ঘটনা নয়। তবে দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এবার ফুটবলপ্রেম দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহু গণমাধ্যমে ড্যাফোডিলের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ার পর, এবার সেই ভালোবাসার প্রতিফলন দেখা গেছে খোদ ব্রাজিলের তারকা নেইমার জুনিয়রের কাছ থেকে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচ চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা সম্মেলন কেন্দ্রে খেলা উপভোগ করতে প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও ফুটবলপ্রেমী জড়ো হন। গোল হওয়ার সাথে সাথে হলুদ জার্সি ও ব্রাজিলের পতাকা হাতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে মুখরিত করে তুলে। একপর্যায়ে তারা সমস্বরে ‘নেইমার, নেইমার’ স্লোগান দিতে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার ইফতি সেই মুহূর্তের একটি রিল ভিডিও তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। ভিডিওটি ক্ষণिकায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং লক্ষাধিক ফুটবলপ্রেমীর নজর কাড়ে। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক আসে তখন, যখন ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিধারী তারকা নেইমার জুনিয়র তার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে সেই ভিডিওতে রিঅ্যাক্ট করেন।
এর আগে, ১৭ জুন আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ, ২০ জুন ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচ এবং ১৪ জুন ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের সময় ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের ভিডিও জাতীয় গণমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম ও ফুটবল বিশ্লেষকেরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও শেয়ার করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ফক্স সকার, ইএসপিএন, মার্কা, টিওয়াইসি স্পোর্টস, দিয়ারিও ওলে এবং জনপ্রিয় ফুটবল সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো।
প্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন ভার্চুয়ালি পাওয়া সাড়া ড্যাফোডিল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি দেশের ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যেও আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ড্যাফোডিলের ফুটবল সংস্কৃতি ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আলোচিত হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে বিশ্বকাপের আমেজ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ড্যাফোডিলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, আমাদের ক্যাম্পাস সবসময় খেলাধুলাবান্ধব। বড় পরিসরের নিজস্ব ক্যাম্পাস থাকার কারণে খেলাধুলা ও খেলা দেখার আয়োজনগুলোও বিশেষ হয়ে যায়। ফুটবল নিয়ে আমাদের উন্মাদনা অনেক পুরোনো। গত বিশ্বকাপেও আমরা তা দেখেছি। এবার আমরা শুরু থেকেই বিশ্বকে জানাতে চাই, বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ও উচ্ছ্বাস কতটা গভীর। আমরা আশা করি, আমাদের প্রিয় খেলোয়াড়রাও জানুক, বাংলাদেশে তাদের প্রতি ভালোবাসা কতটা ব্যাপক।
ইনজুরি কাটিয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায় থাকা নেইমারের এই ছোট্ট একটি ‘লাইক’ যেন প্রমাণ করে দেয়, ভৌগোলিক দূরত্ব যতই থাকুক না কেন, বাংলাদেশি সেলেসাও সমর্থকদের ভালোবাসা ঠিকই পৌঁছে যায় তাদের প্রিয় তারকার কাছে, জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এখন শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, একদিন বাংলাদেশ থেকে ড্যাফোডিলের ফুটবলপ্রেমীদের সমর্থনের বার্তা পৌঁছে যাবে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছেও।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন