প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মে পরিবর্তন এনেছে আইনপ্রণেতা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)। তবে বলা হচ্ছে যে নতুন নিয়মগুলো ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকে কার্যকর হওয়ার কথা, তবুও বিশ্বকাপই হবে এসব পরিবর্তনের প্রথম বড় পরীক্ষার মঞ্চ।
ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজ কলিনা জানিয়েছেন, বর্ণবাদ ও বৈষম্য রোধের পাশাপাশি সময় অপচয় কমানো এবং খেলার গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন কোনো বিরোধ বা উত্তপ্ত পরিস্থিতির সময় যদি কোনো খেলোয়াড় হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখেন, তাহলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হবে। এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে বর্ণবাদী বা আপত্তিকর মন্তব্য করে মুখ লুকিয়ে দায় এড়ানোর প্রবণতা ঠেকানো যায়। তবে একই ক্লাবের দুই ভিন্ন দেশের সতীর্থ স্বাভাবিক কথোপকথনের সময় মুখ ঢাকলে শাস্তি প্রযোজ্য হবে না।
রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে যদি কোনো খেলোয়াড় মাঠ ত্যাগ করে, তাহলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হবে। একইভাবে, কোচ বা দলের কর্মকর্তা যদি খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে উৎসাহিত করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো দল মাঠ ছেড়ে যাওয়ার কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে তখন প্রতিপক্ষ দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
সময় নষ্টের প্রবণতা কমাতে থ্রো-ইন ও গোল-কিক নেওয়ার সময় রেফারিরা দৃশ্যমান ৫ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শুরু করবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থ্রো-ইন না নিলে বলের দখল প্রতিপক্ষ দল পাবে। অন্যদিকে, গোলরক্ষক যদি ৫ সেকেন্ডের মধ্যে গোল-কিক নিতে ব্যর্থ হন, তাহলে প্রতিপক্ষ দল কর্নার কিক পাবে।
বদলির সময় ফোর্থ অফিসিয়াল বোর্ড প্রদর্শনের পর মাঠ ছাড়তে থাকা খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সাইডলাইনের নিকটতম অংশ দিয়ে মাঠের বাইরে যেতে হবে। যদি নির্ধারিত সময় অতিক্রম হয়, তাহলে বদলি হিসেবে নামতে যাওয়া খেলোয়াড়কে এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে এবং খেলা প্রথমবার থামার পরই তাকে মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
মাঠে চোট পেলে এবং মেডিকেল স্টাফ চিকিৎসার জন্য মাঠে প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষকের চোট, মাথায় গুরুতর আঘাত, গোলরক্ষক ও আউটফিল্ড খেলোয়াড়ের সংঘর্ষ কিংবা পেনাল্টি শুটারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো, ভুলভাবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেওয়া কিংবা ভুল কর্নার কিকের সিদ্ধান্ত সংশোধনে এখন ভিএআর ব্যবহার করা যাবে।
এ ছাড়া, কর্নার বা ফ্রি-কিক নেওয়ার আগে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় যদি রক্ষণভাগের কাউকে ফাউল করেন, তাহলে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দিতে পারবে। ফাউল প্রমাণিত হলে তখন কার্ড প্রদর্শন এবং পুনরায় কিক নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দুই অর্ধে বাধ্যতামূলকভাবে তিন মিনিট করে হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হবে। সাধারণত প্রতি অর্ধের ২২ মিনিটের কাছাকাছি সময়ে এই বিরতি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ম্যাচ চলাকালে গোলরক্ষক চিকিৎসা নিলে সেই সুযোগে অন্য খেলোয়াড়রা সাইডলাইনে গিয়ে কোচের কাছ থেকে কৌশলগত নির্দেশনা নিতে পারবেন না। তাদের মাঠের ভেতরেই অবস্থান করতে হবে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হলে সময়ক্ষেপণ কমবে, রেফারিং আরও স্বচ্ছ হবে এবং ম্যাচ পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও গতি বাড়বে। ফলে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ফুটবলের আধুনিক যুগের অন্যতম নিয়ম-পরিবর্তনের টুর্নামেন্ট।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন