প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হিমালয় ও তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নেপালের বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগের ফলে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি নেপালের মোট স্থাপিত জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩.২ গিগাওয়াটের ১২ শতাংশেরও বেশি।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাহাড়ি ঢলের কারণে নেপালের ভোটেকোশি নদীর পানি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও অবকাঠামোয় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বন্যার পানির সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে কয়েকটি জেলায়। এর ফলে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ।
নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্যোগের ফলে ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। জলবিদ্যুৎনির্ভর নেপালের অর্থনীতিতে এই ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি নদীগুলোকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলছে নেপাল। ফলে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা নেপাল সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ভোটেকোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নদীর তীর থেকে সরে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নুওয়াকোট জেলার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবনগুলো ঘন কাদায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত কাদা জমে থাকতে দেখা গেছে। কাদার নিচে চাপা পড়েছে যানবাহন। গাছ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে আটকে আছে বন্যার ধ্বংসাবশেষ।
হিমবাহ থেকে তুষারধসের আশঙ্কা
কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, হিমবাহ থেকে সৃষ্ট একটি তুষারধসই আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে পেছনে থাকতে পারে।
নেপালের সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বতেও একই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ভূমিধসে অন্তত তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ড্রোনের ফুটেজে সড়ক ধ্বংস এবং কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে ভবন চাপা পড়ার চিত্র দেখা গেছে।
হিমালয়ে বাড়ছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি
হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার মতো ঘটনা বাড়ছে।
গত বছরের আগস্টেও তিব্বতে অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যে একটি হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত হন এবং নেপাল-চীন সংযোগকারী একটি সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
সূত্র : এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন